মরহুম আব্দুল জব্বার রহ. এর স্বীকৃতি বিষয়ক আদর্শিক অবিচলতা ইতিহাসবোদ্ধাদের কাছে অজানা নয়, তবে কেউ কেউ ব্যাক্তি আব্দুল জব্বারকে অপছন্দ হওয়ায় গ্রহন করতে না পেরে নিঞ্জা টেকনিকে বিরোধীতা করেছেন। তাঁর জীবদ্দশায় “হাটহাজারী হুজুর কইছে” এমন নীতি বাস্তবায়ন করার যথেষ্ট চেষ্টা করেও ব্যার্থ হতে হয়েছে, যদ্দরুণ তাকেও মোকাবেলা করতে হয়েছে বহু পরিস্থিতির।

উনার শেষ সময়ে অনেক কিছুই ঘটেছে নানা কারনে, সেটা যার চোখে যে রকম চশমা সে সেই রঙ্গে সাজাবেন। তাকে সরিয়ে মহাসচিব হওয়ার খাহেস ছিল বেশ ক’জনের।

সম্ভবত তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এমন সময় মুফতী ওয়াক্কাস সাহেবের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ফরিদাবাদ এসে আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের নেতৃত্বে গড়ে তুলেন “খাস কমিটি” যেই খাস কমিটি নিয়ে বেফাকের সর্বশেষ কাউন্সিলে ওলামায়ে কেরামের আপত্তি ও ময়মনসিংহের খালেদ সাইফুল্লাহ সা’দী সাহেবের আলোচনা পরবর্তী আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় দলে দলে সদস্যগন কাউন্সিলস্থল ত্যাগ করার দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন।

বেফাক সর্বশেষ কোন এক জাতীয় ইস্যুতে সমাবেশের জন্য ফরিদাবাদ ছাত্র প্রেরণের চিঠি দিলে মুহতামিম সাহেবের বক্তব্য ছিল “বেফাক যাদেরকে নিয়ে চলে তারা করুক, আমাদেরকে বেফাক কী দিয়েছে? অথচ আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক পরীক্ষার ফি দেই, সারা বাংলাদেশে আমাদের মতো এতো টাকা বেফাককে কেউ দেয়না, অথচ আমরা অবহেলিত”

যাক সেই তিনিই যখন পরবর্তীতে মহাসচিব হলেন বেফাক কার্যালয়ে সা’দ সাহেবের বিরুদ্ধে সমাবেশের জন্য নিজের পুরো মাদরাসাকে নিয়ে গিয়ে নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত পেশ করেন।

স্বীকৃতি বিষয়ক সরকার গঠিত ১ম কমিশনে হযরতের নাম ছিল, কিন্তু তিনি অগ্রসর হননি, এমনকি কোন ভ্রুক্ষেপও করেননি। পরবর্তী কমিটি গঠন হওয়ার পর সবচে’ বেশী সরকারের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন হযরত, সদ্য প্রয়াত ধর্মমন্ত্রী তৎকালীন আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ সাহেব ক্ষণে ক্ষণে যোগাযোগ ও খবরাখবর নেন হযরতের কাছ থেকে, তিনি অনেক আগ থেকেই হযরতের সুসম্পর্কের মানুষ, ফরিদ উদ্দীন মাসউদ সাহেব এবং রুহুল আমীন সাহেবদের সাথে হযরতের ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনালাপ চলতে থাকে। তখনও মন্ত্রী কামাল সাহেবের সাথে সরাসরি তেমন জমে উঠেনি।

অপরদিকে বেফাক মহাসচিব যখন মৃত্যুশয্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসাপাতালে দেখতে যেতে থাকেন আর এ দিকে কওমী অঙ্গনের পরবর্তী মন্ত্রীসভা গঠন হতে থাকে। বায়তুল মোকাররমে মহাসচিবের জানাযায় শরীক হলেন শেখ আব্দুল্লাহ ও মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাহেব। আর আমাদের হযরতগন তো আছেনই। সেই সখ্যতা আরো বাড়তে থাকে।

কোন এক ঘরোয়া বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন পরবর্তী মহাসচিব হিসাবে আব্দুল কুদ্দুস সাহেবই উপযুক্ত, ব্যাস! গতকালের গঠনার মতো হাটহাজারীতে গিয়ে সেটার মঞ্জুরী নিয়ে আসা হয়েছে। হাটহাজারী হযরত একক ঘোষণা করলেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবে। প্রথমে তিনি তাওয়াযুআ’না নাকচ করে দু’আ নেন।

তবে বেফাকের গঠনতন্ত্রানুযায়ী কাউন্সিল ছাড়া পদায়ন সম্ভব না হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন।

একটা তথ্য ছুটে গেছে, বেফাকের গঠনতন্ত্রে একটা বিষয় আছে বেফাকের কমিটিতে একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারবেননা, সেই খাস কমিটি গঠনের সময় এ নীতিতে এসে বিপত্তি বাঁধে মুফতী নূরুল আমীন সাহেবকে নিয়ে কারন তিনি তার আগের প্রতিষ্ঠানে থাকতে বেফাকের নির্বাহী কমিটির সদস্য। এখন ফরিদাবাদ চলে আসায় একই প্রতিষ্ঠানে দু’জন হওয়ায় বাদ পড়তে হয় তাকে, কিন্তু না যেহেতু এই খাস কমিটি অপরপক্ষকে ঠেকাতে তাই এখানে তাঁকে লাগবেই, বৈধতার সিস্টেম হলো ফরিদাবাদের মুহতামিম সাহেব অসুস্থ তিনি সব সময় সব মজলিসে থাকতে পারবেননা তাই…..। উদাহরণ স্বরুপ হাটহাজারী হযরতের অসুস্থতার দরুণ আনাস মাদানীর অংশ গ্রহন হুজ্জত হিসাবে সামনে রেখে নূরুল আমীন সাহেবও নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে ১৫ জনের খাস কমিটিতে ঢুকে গেলেন।

ইতিমধ্যেই বেফাক আধুনিকায়ন হতে শুরু করলো, আগের মহাসচিব গরীব ছিলেন তাই গাড়ি কিনতে পারেননি বর্তমান মহাসচিবের কয়েক মাসের মধ্যেই গাড়ির ব্যাবস্থা হয়ে যায় এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পতাকা সমেত ২২+ লাখ টাকা দামের গাড়ি এ দরবার টু ও দরবার চলতে থাকে।
যাতায়াত ভাউচার বোর্ড ই বহন করবে এটাই যুক্তিযুক্ত, বেতনই বা কম থাকাটা এযুগে কিভাবে মানায় তৎকালীন মাত্র ৬০,০০০+ ছিলো। এখন অনেক বছর পার হয়েছে কতো জানিনা।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর থেকে বেফাকের প্রভূত উন্নতি সাধন হতে থাকায় সারা বাংলাদেশের কাউন্সিলরদের ডেকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় মহাসচিবকে, আর স্বীকৃতির বিষয়ে দৌড় ঝাপ করে অবদান রাখায় সাধারণ সদস্য থেকে সহকারী মহাসচিবে (যদিও বর্তমানে যুগ্ম মহাসচিব লিখা হয় জানিনা, গোপন বৈঠকে হয়েও যেতে পারে) প্রমোশন হয় ভগ্নিপতি মুফতী নূরুল আমিন সাহেবের, আরো অনেক কিছু বন্টন হয় আগের দিন।