ফরিদাবাদ মাদরাসার আভ্যন্তরীন দূর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর উত্তাল সেই দিনগুলোর শুরু হয় যখন তারা মাদারাসার শূরা সদস্য ও মুহতামিম সাহেবের কাছে চিঠি পাঠায় বিশাল অভিযোগ নামার জবাব চেয়ে! নির্দিষ্ট তারিখে মাদরাসায় ওরা আসবে জবাব শুনতে।

সেখানে হিসাবের ঘাপলা নিয়েও আপত্তি ছিল, সেই ঘাপলার যে কোনভাবে স্বচ্ছ প্রমাণের জন্য মুহতামিম সাহেব যেভাবে কোষাধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার সাহেবকে নিজের খাটে বসিয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে বলতেন তা আমার স্বচক্ষে দেখা, এখনকার চিত্র হলো তাঁকে মুহতামিম সাহেব খাটে বসাবে তো দূরের কথা উঠতে বসতে ধমক দিতে থাকেন!
তিনি সেই মিটিংয়ে বসে হিসাব পেশ করেন যেভাবে মুহতামিম সাহেব আগে মিলিয়ে দিয়েছেন।

এলাকাবাসীর সাথে জবাবদিহিতা মূলক মিটিংয়ে দু’একজন শূরার সদস্য থাকলেও এলাকাবাসীর প্রশ্নের মুখে তারা فبهت الذي كفر অবস্থা হয়ে চুপ মেরে বসে থাকে। তখন মাদরাসার সবচে’ উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন শিক্ষক মাওলানা কামরুদ্দীন সাহেব (আদীব সাহেব) মুহতামিম সাহেবের পক্ষে কৌশলী উত্তর দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে রাখেন। যার রিকুয়েস্ট তাকে মুহতামিম সাহেব আগেই করে রেখেছিলেন। যদিও তাঁকেও ক’দিন আগে বহিষ্কার করা হয়েছে কারণ সামেন আসবে, এখন শুধু নাম মনে রাখেন।

প্রথম বৈঠকের দিন নায়েবে সাহেব হুজুর মাদরাসা ত্যাগ করেছিলেন আগেই। আর মুফতী সাহেবকে থাকতে বলায় তিনি ছিলেন তবে অন্যায়ের পক্ষে /বিপক্ষে কিছু বলেননি। যার কারনে এই দুই শায়খের প্রতি মুহতামিম সাহেব পরবর্তীতে ঝাল মিটিয়েছেন ভালোভাবেই।

পরবর্তী বৈঠকে মুহতামিম সাহেব শুরার বৈঠক পর্যন্ত সময় নেন, এবং তাদেরকে কমিটির সদস্য করা হবে মর্মে আশ্বাস দিয়ে ২/৩ মাস সময় নেন শূরার বৈঠক পর্যন্ত। তাদেরকে মাদরাসার সংবিধানে থাকা শর্তানুযায়ী সদস্য হওয়ার যোগ্য এমন ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়া হলো।
এরমধ্যে কোমর সোজা করে দাড়িয়ে শুরা বৈঠক করে সে বৎসর মাদরাসার স্বার্থ বিরোধী কাজ করার অজুহাতে বাদ দেয়া হলো সেই হাজ্বী সিরাজ সাহেবকে, এবং মজলিসে শুরায় ক্ষমা চাওয়ানো হয়েছিল বোধহয় তাকে দিকে, এটা আমার মনে নেই।

যাক এ ঘটনার পরের বছর মসজিদে এলাকার একজন গন্যমান্য ব্যক্তি বাবু সাহেবের গায়ে হাত তোলা নিয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরী হয়, সে আবার মুহতামিম সাহেব এলাকাবাসীর তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়েন! একপর্যায়ে থানার তৎকালীন ওসির মাধ্যমে মিমাংসা বৈঠক হয় এবং মসজিদের সামনে দাড়িয়ে মুহতামিম সাহেব এলাসকাবাসীর সামনে দুই হাত জোড় করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ওসির উপস্থিতিতে।

উল্লেখ্য, এলাকাবাসীর এতো ক্ষিপ্ততার পিছনে বড় একটা কারন ছিল বেশ অনেক বৎসর যাবৎ মুফতী আবূ সাঈদ সাহেব ফরিদাবাদ মাদরাসা মসজিদে রমজানের ই’তেকাফে বসতেন, যেহেতু তিনি পীর সেহেতু বায়আ’তও করাতেন তাছাড়া তিনি প্রায় ৩০ বৎসর যাবত খতীবের দায়িত্বও পালন করছেন সেহেতু এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত ও জনপ্রিয়। পুরো রমজান এ’তেকাফে মসজিদ নীচ তলা ভরে দু’তলা ভরপুর থাকতো।

প্রথম ঘটনার পর থেকে মুহতামিম সাহেব কৌশলী হয়ে উঠেন তার অবস্থান মজবুত করতে সে মোতাবেক হাটহাজারী হুজুরের নির্দেশে (!) তিনি মাসের প্রথম জুমা পড়াতে শুরু করেন মাদরাসা মসজিদে, আর নায়েব সাহেব আগে থেকে দুই জু’মা পড়াতেন আর মুফতী সাহেব দুই জুমা’।

আকস্মিক সে বছর মুহতামিম সাহেব ঘোষণা দেন যে, হাটহাজারী হুজুর রমজানে ই’তেকাফে বসবেন মাদরাসা মসজিদে, স্বভাবতই তিনি বসলে দুই সিলসিলার দু’জনের আমলে ঝামেলা তাই মুফতী সাহেব তার মুহিব্বীনদের বলে দিলেন এবৎসর ফুলছোঁয়া এ’তেকাফ করবেন।
তাঁর এই চলে যাওয়াটা এলাকাবাসীর মাঝে চাপাক্ষোভের সঞ্চার সৃষ্টি করে! যেটার বহিঃপ্রকাশ দ্বিতীয় ঘটনায় ঝাড়ে।

সে বৎসর হাটহাজারী হুজুর ই’তেকাফে বসার কথা শুনে বহু ছাত্র ফারেগীন ই’তেকাফে বসে কিন্তু শেষ দশকে দেখা গেল তিনি আসলেননা, এতেকাফে বসলেন ১। মুহতামিম সাহেব ২। শূরা সদস্য মাওলানা আবুল কাসেম সাহেব (ফেনী) ৩। মুহতামিম সাহেবের সম্ভবত চাচাতো ভাই মরহুম সিদ্দীক সাহেব।
মাদারাসায় রমজানে যারা থাকবে সবাইকে বাধ্যমূলক মসজিদে থাকতে হবে এমন নানান কৌশলে সে বৎসর ছাত্র বৃদ্ধি করে মু’তাকিফ বেশী দেখালেও পরবর্তী বছর গুলোতে একমাত্র চাকুরী প্রত্যাশী ছাত্ররা ছাড়া ই’তেকাফ কারীদের হার চোখে পড়ার মতো কমে আসে।
পরে এই দূরত্ব কমাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন মুহতামিম সাহেব, মাদরাসার অনুষ্ঠানগুলোতে তাদেরকে ভিআইপিভাবে দাওয়াত দেওয়া সহ আরো নানা প্রচেষ্টায়।
সে বৎসরই মুফতী সাহেবের দাওরার ঘন্টা কেটে যায়, মুফতী উবায়দুল্লাহ সাহেবের তিরমিযী কেটে যায়।
সে ইতিহাস ভিন্ন। দাওরার সবকে ব্যাপক রদবদল হয়।

সেই থেকে আজও পর্যন্ত মুফতী সাহেবের মাদরাসায় ঘন্টা মাত্র একটি, সপ্তাহে ৪ দিন ইফতা দ্বিতীয় বর্ষে।