পুরো বিষয়টির যোগসূত্র অনেক দীর্ঘ, ধৈর্য্য নিয়ে পড়তে হবে।

সায়্যিদুল ইস্তেগফার পড়ে নেই আগে:
اللهم أنت ربي لا إله إلى أنت خلقتني وأنا عبدك، وأنا على عهدك ووعدك ما استطعت، أعوذ بك من شر ما صنعت، أبوء لك بنعمتك علي، وأبوء بذنبي فاغفر لي فإنّه لا يغفر الذنوب إلّا أنت
আল্লাহ আমাকে লিখতে গিয়ে মিথ্যাচার ও সীমালঙ্ঘন থেকে হেফাজত করুন।

যেভাবে তিনি ফরিদাবাদে নিয়োগ পেলেন :

বেশ কয়েকবছর আগে ফরিদাবাদের কিছু জায়গা জমি সংক্রান্ত মামলা মুকাদ্দামা নিয়ে কোর্টে দৌড়াদৌড়ি করতে হতো দীর্ঘদিন এ কাজটা প্রবীণ মাষ্টার আব্দুল কাদের সাহেব রহ. সহ বিভিন্নজন করতেন নিয়মিত।
নূরুল আমীন সাহেব হলেন মুহতামিম আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের ভগ্নিপতি। মুহতামিম সাহেব তাকে নিয়োগ দিলেন জমিজমার মামলার বিষয়টি তদারকি করতে!
আর তিনি এসব লিংকিং কাজে বেশ এক্সপার্টও।
এ কাজের জন্য তার ভাতাও মঞ্জুর করিয়েছিলেন শুরা থেকে!
যাক সে জায়গার বড় একটা অংশ * দখলে এসেছে ঢাকার সাবেক মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকার একক অবদানে, যে ইহসানের কথা এখন কর্তৃপক্ষ উচ্চারন করে তার জন্য দুআ করার সৎসাহস পায়না।

(*জায়গাটি ছিল বর্তমান মসজিদের পশ্চিমের বাড়তি অংশটা, যারা পুরাতন মসজিদ দেখেছেন তাদের মনে থাকার কথা, আলহামদুলিল্লাহ অধমের মাটি কাটার সৌভাগ্য হয়েছে)

যাক! সে সাফল্য অর্জনের কৃতিত্ব স্বরুপ মুফতী নুরুল আমিন সাহেবকে মাদরাসার মজলিসে আমেলার সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো যে কোনভাবে!
কারণ আমেলার মিটিংয়ে জায়গার বাকী অংশের মামলার অগ্রগতি নিয়ে জানাতে হয় তাই যেহেতু যিনি এ কাজ করছেন তিনি যুক্ত হতে পারেন, তো ফরিদাবাদের মুতওয়াল্লী আহমাদ শফী সাহেবেকে দিয়ে নির্দেশ করিয়ে তাকে আমেলার সদস্য বানানো হলো!

যারপর নাই চেষ্টা ও লবিং হয়েছিল শিক্ষক হিসাবে ঢুকানোর কিন্তু সে সময় বলয় মজবুত ও আভ্যন্তরীন প্রকাশ্য বাধার কারনে পেরে উঠেননি মুহতামিম সাহেব।
ঐ সময়গুলোতে নূরুল আমীন সাহেবের ঘনঘন ফরিদাবাদ যাতায়াত দেখে মাদরাসার প্রভাবশালী সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল গনী সাহেব (মুহতামিম সাহেবের সম্পর্কে চাচা তিনি) অফিসের সামনে বসে স্বভাবসূলভ ভঙ্গিতে তাকে লক্ষ্য করে বলেন “কিউ! এতো ঘুরেন ক্যা? এহেনে ঢুকার ফন্দি করেন নাকি? এই চিন্তা কইরেননা বাদ দেন”
আর তো হলোনা সে যাত্রায়!
যাক তখন-এখন বহু তফাৎ!

সম্ভবত ২০১১/১২ দিকে একবার এলাকাবাসীর মাঝে মাদরাসার আর্থিক অনিয়ম ও মুহতামিম সাহেবের ব্যাপারে অনেকগুলো অভিযোগ নিয়ে এলাকাবাসী মহল্লায় লিফলেট বিতরণ করে সবাই একজোট হয়ে মাদরাসায় আসে জবাব চাইতে।
মাদরাসার ভিতরের এ অনিয়মগুলো প্রত্যক্ষ করতেন তৎকালীন শুরা ও আমেলা সদস্য জনাব হাজী সিরাজ সাহেব, কিন্তু বেচারা একা অসহায়!

তাঁর সাথে মাদরাসার সিনিয়র কয়েকজন উস্তাযের বিশেষত নায়েবে মুহতামিম মাওলানা মুতিউর রহমান ও মুফতী আবু সাঈদ সাহেবে হাফি. এর অত্যন্ত মুহাব্বত ছিল তিনি তাদের সাথে বিষয়গুলো শেয়ার করতেন কিন্তু তাঁরাও মুখ খুলতে মা’যূর ছিলেন।

একপর্যায়ে হাজ্বী সাহেব বিবেকের তাড়নায় এলাকার গণ্যমান্যদের সাথে আলাপ আলোচনা করলে সব পয়েন্ট নোট করে তার মাদরাসায় হিসাব নিকাশ ও নানান দাবী দাওয়া নিয়ে বিশাল হাঙ্গামা বাঁধে, সবচে’ বড় একটা পয়েন্ট এটাও ছিল যে, মুহতামিম সাহেব গোপীবাগে আলীশান বাড়ী করলেন কীভাবে?
তাছাড়া তিনি মুহাতামিম অথচ মাদরাসায় থাকেননা, আমরা এলাকাবী তাকে চাইনা! এবং এলাকাবাসী থেকে মজলিসে আমেলা তে রাখার জন্য একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার দাবীও করা হয়েছিল!

তখন পরিস্থিতি এতটা জটিল ছিল মুহতামিম সাহেবকে হাটহাজারী হুজুরের কাছে কল দিয়ে অসহায়ত্ব পেশ করে বহুবার কাঁদতে দেখেছি! হুজুর দোআ’ কইরেন এভাবে সেভাবে।
শুরা কিংবা আমেলার কেউ সামনে এসে জবাবদিহিতা করার হিম্মত করেনি।

আমাদেরকে তৎকালীন বোর্ডিং ম্যানেজার নূরুল ইসলাম সাহেব ও শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার সাহেব দ্বয় বিভন্ন গ্রুপ করে ইট পাটকেল নিয়ে রেডি থাকতে বললেন, আমরা জিজ্ঞাসা করেছিলাম মুহতামিম সাহেবের সম্মতি আছে তো নাকি পরে আবার বহিষ্কার হতে হয়! তিনি ইশারা ইঙ্গিতে বুঝালেন……।
আমরা বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে রেডি, ওরা গন্ডগোল বাধাঁলেই হামলা! মাগরিবের পর বৈঠক ছিল! এলাকাবাসীর গন্যমান্যদের বিশাল বহর এলো।
বিশেষ টিম ছাড়া সব ছাত্রদেরকে যার যার কামরায় অাটকে রাখতে দারুল ইকামা তৎপর।…….