শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমাদ শফী হাফি. নিঃসন্দেহে একজন মকবুল পীর, মুহতামিম, শায়খুল হাদীস, মুহাদ্দিস ও সংগঠক এতে কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার, আমার এখানে মোটেও শায়খুল ইসলামের দোষ কিংবা তাঁকে খাটো করার নূন্যতম খেয়াল দিলের কোণেও নেই।
আমি অপকৌশলের প্রতিবাদ করছি মাত্র।

সময় তখন ক্যালেন্ডারের পাতানুযায়ী ২০০০ সাল, ফরিদাবাদ মাদরাসার তৎকালীন মুতাওয়াল্লী এবং হাটহাজারীর শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল আযীয রহ. ইন্তেকাল করেন।

ফরিদাবাদের প্রতিষ্ঠাতা মুতওয়াল্লী শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. এতো বিচক্ষণ ছিলেন তিনি চমৎকার এক গঠনতন্ত্র রেখে যান মাদরাসা পরিচালনার জন্য।
যদি কোন মাদরাসা সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে তাহলে পরিবারতন্ত্রের নাম গন্ধও আসার সুযোগ নেই।

সেই গঠনতন্ত্রে মুতওয়াল্লী নিযুক্তির জন্য বাংলাদেশের ৫/৬ টা মাদরাসার নাম উল্লেখ করা আছে যখন যিনি ওই মাদরাসার গুলোর মুহাতামিম থাকবেন ফরিদাবাদের মুতওয়াল্লীর পদ শূন্য হলে ঐ ছয় মুহতামিম মিলে তাদের থেকে একজনকে মুতাওয়াল্লী বানাবেন। মাদরাসাগুলো ছিল :
১। হাটহাজারী
২। পটিয়া
৩। ফরিদাবাদ
৪। গওহরডাঙ্গা
৫। কুমিল্লার কোন একটা মাদরাসা এখন নাম টাম নাই।
আরেকটার কথা মনে নাই।

তখন অবস্থাটা এমন ছিল যে দক্ষতা ও যোগ্যতার বিচারে পাল্লা ভারী হয়ে উঠে পটিয়ার তৎকালীন মুহতামিম আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী রহ. এর।
মিটিংয়ে বসলে ভোটের ঝোঁকে তিনিই হয়ে যান মুতাওয়াল্লী, কিন্তু না, ফরিদাবাদ ওয়ালারা উঠে পড়ে লাগলেন যে কোনভাবেই হাটহাজারী হযরতকে মুতাওয়াল্লী করতে হবে, সেই আজকের হযরতগনই ঐসময় বিভিন্ন ওয়াফদে ভাগ হয়ে সদস্যদের কাছে গিয়ে নিজেদের চাহিদার জানান দিয়ে কৌশলী চাপ প্রয়োগ করেন।
কারণ কেউ তো নিজেকে নিজের ভোট দিতে পারবেনা। প্রত্যেকের ভোট যাতে হাটহাজারী হযরতের পক্ষে পড়ে এজন্য জোর লবিং চলে। বিশেষ করে হারুন ইসলামাদী রহ. এর ভোটটা যেন আহমাদ শফী সাহেবের দিকে পড়ে।
এ জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত হাটহাজারী হযরতকে মুতাওয়াল্লী করতে সক্ষম হন আজকের কলকাঠি নাড়নেওয়ালা আল্লামাগন।

লবিং ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যদি হারুন সাহেব মুতাওয়াল্লী হয়েও যেতেন তাহলে মাদরাসার কি এমন ক্ষতি হতো?
নাহ্, হাটহাজারী কেন্দ্রিক বলয় মজবুত করতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত উপহার দিলেন!
এ বলয় কতটুকু মাদরাসা, দেশ ও জাতির স্বার্থে গড়ে উঠেছে তার নতীজা বোধহয় অস্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, হাটহাজারী হুজুর তখনও বেফাকের চেয়ারম্যান হননি, হয়েছেন আরো ৫/৬ বছর পর।

সেই সফরকারী প্রতিনিধি দলে ছিলেন এমন হযরতের বর্ণনা যেটা আমি নিজকানে বেলা ওয়াসেতাহ্ শুনেছি।