নূরুল আমীন পুত্র মাহফুজের একটা চ্যালেঞ্জ লেখা অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেখানে তার বাবার কথা সত্য প্রমাণে গোঁজামিল দেয়ার চেষ্টা করেছে, আমিও চ্যালেঞ্জ করলাম তোমার বাবা যেন লাইভে এসে নিচের বক্তব্য খন্ডন করে আরও একটা মিথ্যাচার মূলক ভিডিও আপলোড দেয়! ????? ????????
________________________

কি হতে যাচ্ছিল সেদিন হাটহাজারীর শূরায়? আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে শুধু মুঈনে মুহতামিম থেকে অব্যহতি? নাকি আরো ভয়ংকর কিছু?

জেনে নেওয়া যাক একজন গুরুত্বপূর্ণ শূরা সদস্যের বক্তব্য থেকে সেদিনের আসল ঘটনাঃ

“মজলিশে শূরায় ঢুকেই দেখলাম, নুরুল আমীন সাহেব রেজুলেশন লেখা শুরু করে দিয়েছেন। একটু রাগ হয়ে বললাম, সিদ্ধান্তই তো এখনো আসেনি। তুমি রেজুলেশন লিখছো কেন?

শূরার বৈঠক শুরু হল। কিছুক্ষণ পর একটা পত্র পাঠ করা হয়। আগে থেকে লিখে আনা এ পত্রে শফি সাহেবের সাক্ষর ছিল। সেখানে প্রথমে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

অভিযোগ শেষে দাবী করা হয়, এই অভিযোগের কারণে উনাকে শুধু মুঈনে মুহতামিমের পদ থেকে সরিয়ে দিলেই হবেনা বরং হাটহাজারী মাদরাসা থেকেও পুরোপুরি অব্যাহতি দিতে হবে। পাশাপাশি হেফাজতের মহাসচিব পদ থেকেও বাদ দিতে হবে।

আমি সহ শূরার প্রায় সব সদস্যরা সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। আমরা এই অভিযোগের ব্যাপারে জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্য নিতে জোরদার আবেদন জানাই। তার প্রেক্ষিতে জুনায়েদ বাবুনগরীকেকে ডাকা হল। তিনি প্রত্যেকটা অভিযোগের সমুচিত জবাব দিয়ে চলে যান।

কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পরও আল্লামা শফি সাহেব বারবার বলতে থাকেন “জুনায়েদকে বাদ দাও, শেখ আহমদকে নাও”। অবশেষে শূরা সদস্যদের জোরালো অবস্থানের কারণে তাকে হাটহাজারী ও হেফাজত থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মুঈনে মুহতামিম পদে জুনায়েদ বাবুনগরীর জায়গায় শেখ সাহেবকে আনার একক সিদ্ধান্তটা আমরা মেনে নিতে বাধ্য হই। একদিকে আল্লামা শফি আমাদের মুরুব্বি। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও চাপ ছিল শফি সাহেবের সকল প্রস্তাবকে যেন মেনে নেওয়া হয়।

তবে শূরা শেষ হওয়ার পর আমি সকলের সম্মতিক্রমে একটি আদেশ জারি করি। শূরার কোন সিদ্ধান্তের কথা নিজ থেকে কেউ আগ বাড়িয়ে বাইরে বলতে পারবেনা। কোন প্রেস কনফারেন্স বা মিডিয়ার সামনে কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেনা। আল্লামা আহমদ শফি সাহেব যেহেতু এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনিই ঘোষণা দিবেন। হয়তো তিনি মৌখিকভাবে বলবেন, অথবা তার পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সব শূরা সদস্যরা একথা মেনে নেন।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে নুরুল আমীন সাহেব শূরার এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন। পুরোনো সেই রেজুলেশন যা শূরার সিদ্ধান্তের আগেই লেখা হয়েছিল মিডিয়ার সামনে সেটাকে শূরার বক্তব্য হিসেবে প্রচার করে দেন।

আমি এরপর নুরুল আমিনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন তুমি নিয়ম ভঙ্গ করলে?
নুরুল আমীন সাহেব বলেন, ভুল হয়ে গেছে হুজুর..
আমি ধমক দিয়ে বললাম, তুমি কি বাচ্চা যে তোমার ভুল হবে?”

এই হচ্ছে একজন গুরুত্বপূর্ণ শূরা সদস্যের জবানবন্দি। তার থেকে শুনে লেখার পর বর্ণনাকারীকে আবার দেখানো হয়েছে। অতএব এটা নির্ভরযোগ্য সংবাদ। শূরার সেই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য যার কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন তিনি ওলামাদের একটি পরিচিত সংগঠনের সভাপতি, সুপরিচিত ও নির্ভরযোগ্য আলেম। বর্ণনাকারী গুরুত্বপূর্ণ শূরা সদস্য হচ্ছেন ঢাকার একটি বড় মাদরাসার মুহতামিম, ও একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের আমীর। বাকি পরিচয় ইনবক্সে।

আর হ্যা, আমরা যারা হাটহাজারীকে দ্বীনী আন্দোলনের মারকাজ মনে করি, তারা হাটহাজারীতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করিনা। প্রশাসনও এই ইস্যুকে মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে ছেড়ে দেয়নি। তাই তারা এত সিরিয়াসলি প্ল্যানিং করে পুরা ইস্যু হ্যান্ডেল করেছে।

আপনারা যারা চলমান অস্থিরতাকে হাটহাজারী মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করে দিনরাত চুপ থাকার উপদেশ দিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা হয়তো প্রশাসনের হস্তক্ষেপকেও মাদরাসার “অভ্যন্তরীণ বিষয়” হিসেবেই ধরে নিয়েছেন। আপনারা দয়া করে এই সংক্রান্ত যে কোন আলোচনা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
Ashraf Mahdi