ফরিদাবাদ মাদরাসার হয়ে সাহেবযাদা যুবায়ের সহ কয়েকজন শিক্ষক মিলে ” দু ফোটা অশ্রু” শিরোনামে জবাবনামাটি লিখে তা কপি পেষ্ট করে প্রচারের জন্য অনলাইন – অফলাইনে নিজস্ব টিম দিয়ে কিভাবে কাজ করাচ্ছেন তা সময় হলে সব ফাঁস হবে ইনশাআল্লাহ্।
ক্ষমতা থাকলে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদ থামানো যায়, অপপ্রচার /তোষামোদি প্রচার চালানো যায় এবং যারা প্রতিবাদী পোষ্টে কমেন্ট করে কিংবা প্রচার করে তাদের তালিকা করে শিক্ষক ও পরিচিতজনদের দিয়ে হুমকি দেয়ানো এটা চরম নৈতিক স্খলনের বহি:প্রকাশ।

জবাবের জবাবে কিছু কথা:

এক.
মাওলানা আব্দুল মু’মিন কিভাবে শিক্ষক হলেন?
ফরিদাবাদে কিছু নিয়োগ সাহেবযাদা পছন্দীয় কোটায় তাদের লবিংয়ে হয়ে থাকে, তার মধ্যে তিনি অন্যতম এবং তাদের দিয়েই শুরু এই কোটায় নিয়োগ।

যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হলো সদ্য নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক যুবায়ের মহিউদ্দীন। কুখ্যাত সংগঠন “মুভ” এর সাথে যার সংশ্লিষ্টতা মাদরাসায় স্বীকৃত একটা বিষয়।
তিনি দুই সাহেবযাদা শিক্ষকের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে সুবাদে লবিংয়ে নিয়োগ পেয়ে যান ফরিদাবাদে।

যাক যেই আব্দুল মুমিন সাহেব “দু ফোটা অশ্রু” নামে জবাব লিখেছেন তিনি বার্ষিক পরীক্ষা না দিয়েও পরবর্তী ক্লাসে ভর্তি হওয়ার অনন্য যোগ্যতার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন এই সাহেবযাদা পছন্দনীয় কোটায়!

তিনি সার্টিফিকেট এর জন্য ফরিদাবাদ যাওয়ার বিষয়ে খোটা দেন অথচ নিয়মানুযায়ী সে ফরিদাবাদ থেকে সার্টিফিকেট ই পায়না, কারন পরীক্ষার গ্যাপ রয়েছে তার। ফরিদাবাদ ছেড়ে অন্য কোথাও নিজ যোগ্যতাবলে যুক্ত হয়ে বড় কথা বললে মানাত!

ফরিদাবাদে জায়গা করে নিতে হবে কিংবা দিতে হবে এই প্রত্যয়ে চলে সাহেবযাদার সমন্বয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
তৃতীয় বর্ষের নামে অর্ধবছর কাটিয়ে মাসিক ম্যাগাজিনের নামে দু’টি পত্রিকা সদৃস চটি বের করে সেটি মুহাতামিম সাহেবকে দেখিয়ে সাহিত্যের যোগ্যতা প্রমাণ করে মজলিসে শূরা কর্তৃক পাশ হওয়া মাদরাসার পত্রিকা নেয়ামত প্রকাশের দায়িত্ব নেয়।
পরের বছর লবিংয়ের মাধ্যমে নেয় কিতাব বিভাগের সবক। তারা যদি কিছু মিথ্যাচারের মাধ্যমে কলঙ্ক না ঢাকে তা হলে কি ইহসানে বদলা হবে??

দুই.
প্রসঙ্গ এনেছেন বেফাকের ভালো রেজাল্ট করা নিয়ে নাকি অন্যদের চুলকানী!
বাধ্য হয়ে বলতে হয় ফরিদাবাদের সোনালী ঐতিহ্যে কলঙ্ক কারা লেপন করলো?
বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মাওলানা যুবায়ের যিনি ছোট যুবায়ের নামে পরিচিত তিনি যোগ্যতাবলে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আর সাহেবযাদা যুবায়ের কে যৌথভাবে প্রথম বানানোর জন্য নাম্বার বাড়িয়ে প্রথম স্থানে আনার পিছনের ইতিহাস সংশ্লিষ্টদের কাছে স্বীকৃত।

মুহতামিম সাহেবের আরেক সাহেবজাদা আব্দুল্লাহ ওবায়েদ দাওরায় বেফাকে মুমতায পর্যন্ত হতে পারেনি!
রমজানে বেফাকের নাযেমে ইমতেহান পরীক্ষার ফলাফল দেখাতে সর্বপ্রথম ফরিদাবাদ মাদরাসা মসজিদে ই’তেকাফরত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল কুদ্দুস সাহেব এর নিকট আসেন তখন তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ছেলে ওবায়দের খাতা রিভিউ করতে বলেন পরবর্তীতে তাকে টেনেটুনে গড়ে বরাবর ৮০ বানিয়ে “মুমতায” হিসাবে প্রকাশ করা হয়। অথচ প্রথম প্রকাশিত ফলাফলে ৭৮ ছিল গড় নাম্বার তথা জায়্যিদ জিদ্দান।
পরের বছর হাইয়া প্রতিষ্ঠা হলে আবার পরীক্ষা দিয়ে তিনি মেধা তালিকায় জায়গা করে নেন।
মাদরাসার পরীক্ষায়ও তাকে এক নাম্বার বানাতে চেষ্টা করা হতো অন্যদের উপর নানা জুলমে সেটা সহপাঠী ও শিক্ষকগনের কাছে স্বীকৃত তবে অপ্রকাশিত। এমনকি তাকে তাহরীকে দেওবন্দে নাম্বার কম দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক থেকে পরের বছর কিতাব কেটে দেয়া হয়, তিনি বহু চেষ্টা করেও মুহতামিম সাহেবের অসন্তুষ্টির কারনে জবাব পাননি!

তারপর তিনি সাহেবযাদা কোটায় কিভাবে শিক্ষক নিয়োগ হলেন তা সবার জানা। অথচ একই বছরে তারচে’ ইলমী আদবী ও আখলাকী ছাত্র বঞ্চিত। সারাবছর সবক্লাসে এক নাম্বার এবং তার আখলাক ও মুআদ্দাবানা চাল চলন সমস্ত আসাতিযার মধ্যে স্বীকৃত!
তবুও অদৃশ্য কারণে তাদের ডিঙ্গিয়ে সাহেবযাদারা এগিয়ে যায় আর তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা রাখা মুভ কর্মীও বসে যায় শিক্ষকের মসনদে!

তিন.
মহাসচিব ইস্যুতে জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছেন আগের মরহুম মহাসচিব কি বিনা বেতনে খেটেছেন?
জাতির কাছে প্রশ্ন আগের মহাসচিব দুই পদে একনিষ্ঠভাবে একাই রাত – দিন খেটে লাখ টাকা বেতন নিয়েছেন? অথচ এখন সেই একজনের কাজই বন্টিত হয়ে ভাতা দাড়াচ্ছে প্রায় দেড় লাখ মাসে!!

চার.
তাদেরই সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ জবাব দিয়েছেন তিনি ফী নফসিহী ধনী মানুষ!
আমরাও তো চাই ওলামায়ে কেরাম এমন ধনী হোক।
তিনি নিজের ব্যবসা বানিজ্যের পয়সা থেকে বাড়ী – গাড়ি করেছেন। তার ইনকাম সোর্স নিয়ে কেউ আপত্তি না তোলা সত্তেও এ জবাবে তারা অবতীর্ণ হয়েছেন।

যিনি এতো ধনী তিনি ফরিদাবাদ থেকে মাসে বেতন ভাতা মিলিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা!
বেফাক – হাইয়ায় নিয়মিত ভাতা ও মিটিং ভাতা নিয়ে লক্ষাধিক টাকা গ্রহন না করেও তো প্রমাণ দিতে পারতেন!
আর নিজ এলাকার মসজিদের বেতন ও অন্যান্য মাদরাসর ই’জাযী বেতন, প্রোগ্রামের হাদিয়া তো আছেই!

বি:দ্র: এখানে কথাগুলো বলাটা বে ইনসাফী তা আমি বিশ্বাস করি ও বুঝি কিন্তু জবাবের নামে যখন এসব সামনে আসে তখন বলতে হয়

পাঁচ.
হাটহাজারী ইস্যুতে মুফতী নূরুল আমীন ও ফরিদাবাদ বলির পাঠা হয়েছেন নাকি খলনায়ক ছিলেন তা দেশবাসী ভালোভাবেই জানে সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে।

ছয়.
মুফতী আবূ সাঈদ সাহেবের নামেও জঘণ্য মিথ্যাচার করলেন জবাব দিতে গিয়ে! তিনি অব্যাহতি চেয়েছেন বলে!!
অথচ মুফতী সাহেব কতটা তীর্যক ও ঘৃণিত বাক্যের স্বীকার হয়েছিলেন তা বলেননি!
যখন মুফতী সাহেবের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ মহল থেকে কোন কোন শিক্ষক ছাত্রদের সামনে ওপেনে বলে বেড়াচ্ছিলেন আবূ সাঈদ পীরালী আর মাহফিল লইয়া ফরিদাবাদটারে শেষ কইরা দিলো!
সারাদিন বাইরে বাইরে ঘুরে, সবকের খবর নাই।

সম্ভবত ছাত্রদের আবদারের প্রেক্ষিতে দু একদিন শেষ রাতে সবক পড়িয়েছেন এটা অনেকের সহ্য হলোনা!
অথচ তাঁর সবকে তিনি রাত ১২ টায় হোক আর দিনের ১০ টায় হোক যখনই আসতেন ছাত্ররা হুমড়ি খেয়ে পড়তো, একজন ছাত্রও বাহিরে থাকা কিংবা সবকের মাঝে দরসেগাহে উপস্থিত হওয়ার মতো দু:সাহস করতোনা!

এতো তীর্যক মন্তব্য যখন নিজ ছাত্রদের শুনতে হয় তখন তিনি নিজে মুহতামিম সাহেবকে বলেছেন যে, আমার দ্বারা হয়ত হক্ব আদায় হয়না, মুনাসিব মনে করলে আবূ দাউদ না রাখতে পারেন।

একথা বলার কিছুদিন পর রমজানে তিনিই আবার মুহতামিম সাহেবকে বলেছিলেন যে, হাদীসের সাথে নিসবত থাকার জন্য দু’এক দিনের জন্যও কোন কিতাবের অংশ দিতে পারেন।

একথা আর আপনারা উচ্চারণ করেননা!!
এরপর সবক শুরু হওয়ার আগে রুটিন প্রকাশ পাওয়ার পর ছাত্ররা হতাশ হয়ে বহু চেষ্টা তদবির করেও ব্যার্থ হয় হুযুরের কাছে হাদীসের নিসবত নেয়া থেকে।
মুহতামিম সাহেবের কাছে গেলে বলেন নাযিম সাহেবের কাছে যাও, নাযিম সাহেব বলেন মুহতামিম সাহবকে বলো! অথচ তখন কিন্তু মুহতামিম সাহেব বলেননি যে, আবূ সাঈদ সাহেব সবক পড়াতে পারবেননা বলে অপারগতা প্রকাশ করেছেন!
ছাত্রদের তীব্র সমালোচনার জবাবে ঐ প্রথম অংশটা প্রচার করা হয়!

মুফতী ওবায়দুল্লাহ সাহেব বিনা বেতনে পড়াতেন বছরের শেষে তিরমিযী সানীর কিতাবুদ্দাওয়াত অধ্যায়। সেটার ব্যাপারে দীপ্ত উচ্চারণ হলো ফরিদাবাদের নাম বেচে কাউকে চলতে দিবোনা!

মুফতী আবূ সাঈদ সাহেব এতোটা উসূলের উপর চলেন যে, তিনি বারবার বলেন যে যাই বলুক আমাকে যদি মোহতামিম সাহেব এখন বলেন চলে যেতে আমি বিনা বাক্যে চলে যাবো, আমার এক পা মাদরাসার ভিতরে আরেক পা মাদরাসার বাহিরে।
আমি প্রথমে দফতরে ঢুকে দেখি এই মাসের হাজিরা খাতায় আমার নাম আছে কিনা? যদি না থাকে তাহলে বুঝে নিবো হয়ত আমার বিদায়ের ফায়সালা।

তিনি বেতনের ব্যাপারে পর্যন্ত নিজ থেকে বলে দিয়েছেন যে, আমি যেহেতু ফুলটাইম শিক্ষকের সময় দিতে পারিনা আমাক একজন শিক্ষকের হাফ বেতন দেয়া হোক, তারপর যখন তিনি সপ্তাহে চার দিন পড়ানো শুরু করলেন তখন অনুরোধ করেছেন হাফেরও হাফ বেতনের! এবং এখনও তিনি সেই অনুপাতেই বেতন নেন।

মাদরাসার ডায়েরীতে হুজুরের নামে প্রধান মুফতী লেখার কারনে ছাত্রদেরকে কর্তৃপক্ষের কতটা নির্মম আচরণের শিকার হতে হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের মনে আছে। অথচ তাঁর চে’ ফকীহ মাদরাসায় কেউ নাই।
বাহিরে হুজুরের মর্যাদা ও স্তরের কথা বাদই দিলাম।

এসব বলার দ্বারা উদ্দেশ্য কাউকে কারো প্রতিপক্ষ বানানো নয় বরং সবার চোখে যেন ইনসাফের মু’আমালা প্রতিষ্ঠা হয়, আমরা আপনাদের থেকে আদর্শের সবক নিবো কিন্তু যখন এসব প্রকাশ্য বে ইনসাফী ও জুলম দেখা যায় তখন শরয়ী’ নেযামে আদালত সাক্বেত হয়ে যায় বলে আমরা বিব্রত!

Image may contain: 1 person
Image may contain: sky and outdoor