বৈঠকে হেফাজত আমীর নিয়োগের ব্যপারটা তো সবাই জানেন.. এরপর যা হয়, সেখানে বাবুনগরী হুজুরের বিরুদ্ধে ১৪ পৃষ্ঠাব্যাপী একটা অভিযোগ নামা পেশ করা হয়। সেগুলো যখন পড়া হচ্ছিলো নুরুল ইসলাম সাহেব হুজুর নোট করছিলেন। ৪/৫ পৃষ্ঠা পড়ার পর হুজুর থামিয়ে দেন, বলেন যে ব্যাস, আর লাগবে না।
এরপর যখন হযরত বাবুনগরী হুজুর কে ডাকা হয় এবং বলা হয় যে, এতগুলো অভিযোগ আপনার বিরুদ্ধে আনীত হয়েছে আপনি এর জবাব দিন…!!
তখন বাবুনগরী হুজুর প্রায় ৪৫ মিনিট নিজের বক্তব্য রাখেন। উনার বক্তব্য যখন শেষ হয়, তখন উপস্থিত সকলেই কান্না করেছে..
যাক এরপর বাবুনগরী হুজুর সেখান থেকে চলে আসেন।
এরপর যখন মুঈনে মুহতামীম নিয়োগের সময় আসে তখন ঢাকার শুরা আর নোয়াখালীর শুরা ব্যতীত সকলেই বাবুনগরী হুজুরের পক্ষে রায় দেন…কিন্তু!

শুরার চেয়ারম্যান নিজেই বাধ সাধেন…
আল্লামা আহমদ শফি সাহেব নীজেই বললেন যে বাবুনগরীর নামে যেহেতু অনেক অভিযোগ আসছে তাই শেখ আহমদ কেই মুঈনে মুহতামীম নিয়োগ দিয়ে দাও।
তখন নুরুল ইসলাম সাহেব হুজুর বলেন, যে উনার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ ই তো মিথ্যা। অতএব উনাকে সরিয়ে আমরা শেখ আহমদ সাহেব কে নিয়োগ দিতে পারবো না এটা আমাদের সিদ্ধান্ত ও নয়। তবে আপনি যেহেতু শুরা প্রধান তাই আপনি চাইলে আপনার একক ক্ষমতা বলে নিয়োগ দিতে পারেন।
এরপর আল্লামা আহমদ শফি সাহেব শুরার সিদ্ধান্ত এভোয়েড করে একক ভাবে শেখ আহমদ কে নিয়োগ দেন আর এভাবেই রেজুলেশন পাশ করা হয়।
এরপর আবারও একটা দাবী উত্থাপন করা হয় যে, বাবুনগরী কে হেফাজতের মহাসচিব পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হোক…
তখন আল্লামা নুরুল ইসলাম সাহেব বলেন যে এটা তো হেফাজতের সাংগঠনিক মিটিং নয় এখানে কেনো এটা উত্থাপন হবে..?
এটা হাটহাজারীর মাদাসার শুরা মিটিং এখানে হেফাজতের কোন ফায়সালা হবে না।
এরপর আল্লামা নুরুল ইসলাম সাহেব বলেন যে আমার মতামত হলো বাবুনগরী হুজুর হেফাজতের মহাসচিব ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।
পরে এই ব্যপারে আর কেউ কোন কথা বলেনি।

এরপর তারা সর্বশেষ যেই দাবি আনে সেটা হলো বাবুনগরী হুজুর কে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়ার…
তারা বলে যে হুজুর বিতর্কিত, হুজুর আল্লামা শফি সাহেবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইন্ধনদাতা ইত্যাদি ইত্যাদি..
তখনো আল্লামা নুরুল ইসলাম সাহেব বলেন যে বাবুনগরী হুজুরের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা, অযৌক্তিক। কাজেই হুজুর হাটহাজারী তে ছিলেন, আছেন আর থাকবেন। এ যাত্রায় ও তারা ব্যর্থ হয়ে যায় অন্যান্য শুরারাও একি কথা বলেন তবে সব বলিষ্ঠ কার্যকরি ভুমিকা রাখেন আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদি সাহেব হুজুর।

এরপর আসে ইফতা বিভাগের প্রধান কে হবে..?
তখন আল্লামা নুরুল ইসলাম সাহেব বলেন যে,””এইযে ফরিদ সে কি আব্দুস সালাম সাহেবের মুতের যোগ্য.? সে কিভাবে হাটহাজারী মাদ্রাসায় ইফতা বিভাগের প্রধান হয়..? কোথায় মুফতি আব্দুস সালাম সাহেবে পাকিস্তান এর মুফতিয়ে আজম, বাংলাদেশ ও মুফতিয়ে আজম আর উনাকে বাদ দিয়ে এই ফরিদ কিভাবে হয়..??”””

এরপর হুজুরের প্রতিবাদের ভিত্তিতে আব্দুস সালাম সাহেব হুজুর কে ইফতা বিভাগের প্রধান করে রেজুলেশন পাশ করা হয়।

এদিকে আল্লামা নুরুল ইসলাম সাহেব হুজুর যখন মিটিং এ আসেন ততক্ষণে অন্য সকলেই চলে আসায় হুজুর ছিলেন সর্বশেষে প্রবেশকারী।
তো হুজুর যখন রুমে প্রবেশ করবেন তার আগে রুমের সামনে মাও সলিমুল্লাহ কে দেখে জিজ্ঞেস করেন তুমি এইখানে কেনো.?
মাওলানা সলিমুল্লাহ বলে যে আমি নাজিরহাটের পক্ষ থেকে আসছি…
আল্লামা নুরুল ইসলাম সাহেব বলেন”””তুমি তো নাজিরহাটের অবৈধ মুহতামীম তুমি এইখানে কেনো যাও এইখান থেকে”” উনার এই ধমক খেয়ে মাওলানা সলিমুল্লাহ সেখান থেকে হাওয়া হয়ে যায়।
এরপর যখন ভিতরে প্রবেশ করেন সেখানে আনাস কে দেখতে পান। তাকে দেখে বলেন, তুমি এখানে কেনো ? সে বলে বাবার খেদমতের জন্য, তখন হুজুর বলেন হুজুরের খেদমতের জন্য খাদেমরা আছে তোমার থাকা লাগবে না । যাও তুমি এখান থেকে, এই বলে আনাস কেও সেখান থেকে বের করে দেন।

আর এই সব ভুমিকার কারনে পরবর্তীতে তারা হুজুরের নামে অপবাদ রটায় যে হুজুর কে নাকি আল্লামা বাবুনগরী হুজুর বিমান ভাড়া করে এনেছেন নাউযুবিল্লাহ।
এটা একটি চরম মিথ্যা অপবাদ।

সূত্র : Syed Shamsul Huda সাহেব পেশ করেছেন jubayer mahmud থেকে।