কোটি টাকার অনিয়ম ও দূর্নীতির বহু অভিযোগ সত্ত্বেও কাছের লোক হওয়ার সুবাদে অভিযোগ উড়িয়ে দিতেন আব্দুল কুদ্দুস সাহেব! সে ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে মাশাআল্লাহ্।

(এ লেখাটি তাদের জন্য উৎসর্গ করলাম যারা বলে বেড়াচ্ছেন এসব অভিযোগ সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে না করে জনসম্মুখে কেন প্রচার করছেন?)

মাওলানা নূরুল ইসলাম সাহেব, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন ফরিদাবাদের বোর্ডিং এর নাজেম হিসাবে।
ছিলেন আল্লামা আহমাদ শফী সাহেবের খলীফা, একই সাথে মুহতামিম সাহেবের অত্যন্ত বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন ও আপনজন।
মুহতামিম সাহেব যেমন নানা প্রয়োজনে তাকে ব্যবহার করে প্রায় সময় নিজ স্বার্থ রক্ষা করেছেন ঠিক তেমনি তিনিও সেই সুবিধার আড়ালে নিজের প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষক হিসাবে নিচের ক্লাসে কয়েকটা সবক পড়াতেন, ভালোই পড়াতেন এবং ছাত্র গড়তেও পারতেন তবে….।

নিচের লিফলেটটি প্রকাশের বছর খানেক আগ থেকে সচেতন মহল বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা সত্ত্বেও তাঁরা তদন্তে অনীহা প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিতে থাকেন। এমনকি লিফলেট প্রকাশ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য চেষ্টা করা হয় নানা ভাবে। যাদের কাছে লিফলেট পাওয়া যেত তাদেরকে যথেষ্ট হয়রানি ও হুমকি প্রদান করতো মিত্রচক্র।

শেষপর্যন্ত উপর থেকে নাড়া পড়ার কারনে তদন্ত করার পর প্রকাশ পায় মুহতামিম সাহেবের নিজ মুখে স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তিনি মাত্র ৭৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন! যদিও বাস্তবতায় তার পরিমাণ কোটি টাকারও উপরে।

এই প্রমাণিত দূর্নীতি প্রকাশ পাওয়ার পরও শুরার বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন হয়নি, এরপরও দীর্ঘ চার বছর পর্যন্ত তাঁকে বেতন দিয়ে মাদরাসায় রাখা হয়েছিল। নিজেদের যে সব অপকর্মে তাকে ব্যাবহার করা হয়েছে সে সব ফাঁস করে দিবেন এই ভয় থেকে।

এরপর একপর্যায়ে এসে নূরুল ইসলাম সাহেবের নারায়ণগঞ্জে কেনা জমিটি আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের নামে লিখে রাখা হয়েছে, মাদরাসার নামে নয়।
একইভাবে তার গ্রামের বাড়ির বিল্ডিংটিও আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের নামে লিখে রাখা হয়।

উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জের জমিটি মাওলানা নূরুল ইসলাম সাহেবের কাছে বিক্রয় করেছিলেন বর্তমান আলোচিত মুফতী নূরুল আমীন সাহেব !

গ্রামের বাড়িটির মালিকানা বদলের সময় কথা ছিল নূরুল ইসলাম সাহেব সে বাড়িতে থাকবেন ভাড়াটিয়া হিসাবে কিন্তু প্রথম কয়েকমাস নামকা ওয়াস্তে ভাড়া দিলেও তারপর থেকে কোন প্রকার ভাড়া ছাড়াই দিব্যি বসবাস করে আসছেন নির্বিঘ্নে।

আল্লাহ না করুন আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের মৃত্যুর পর যদি তার পরিবারের সাথে কোন কারনে মাদরাসার সম্পর্কের অবনতি ঘটে তাহলে এই সম্পদ….?
আর মালিকানা পরিবর্তনকৃত সম্পদের মূল্য আত্মসাৎকৃত অর্থের তুলনায় অতি নগন্য।

এতো বড় দূর্নীতির দায় কার উপর বর্তায়?

মাদরাসার এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি তার কাছ থেকে সরিয়ে পরবর্তীতে যাদের হাতে দেয়া হয় তারা মুহতামিম সাহেবের এ যুগের একান্ত খাদেম গং।
যাদের আমানতদারী দিয়ানতদারী তাকওয়া যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ, অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠলেও তা মুহতামিম সাহেবের একান্ত লোক বলে ধামাচাপা পড়ে যায়!

বর্তমান বাজারের দায়িত্বে থাকা মাওলানা শোয়াইবের স্বীকৃত একটি বিষয় শুনুন।
যখন মুহতামিম সাহেবের নিজস্ব গাড়ী ছিলনা তখন বিভিন্ন প্রোগ্রামে গাড়ী ভাড়া করে যেতেন সে সময় সফরের পি এস ছিল শোয়াইব, তিনি যাতায়াত বিল আয়োজকদের কাছে বেশি দেখাতেন, ড্রাইভার পরিচিত হওয়ার সুবাদে এমনিতে নিজে ভাড়া কম নিতো বড় হুজুরের খেদমত করার সৌভাগ্য হিসাবে।
মাঝে শোয়াইব কমপক্ষে ৫০০-১০০০ টাকা কমিশন খেত। বর্তমানে বাজার করতে গিয়েও এভাবে কমিশন বাণিজ্যের রেকর্ড রয়েছে।

মাদরাসার অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিজের সাবেক খাদেমদের হাতে তুলে দিয়ে রেখেছেন যাদের আচরণ, নামাজ তরক ও আমল – আখলাকের করুন হালত মাদরাসার ভিতরে সবার কাছে স্বীকৃত।

অফিস কোষাধক্ষ্য মাওলানা জুনায়েদের ব্যাপারে সিনিয়র উস্তাযগনের হৃদয়ের ব্যাথা মাঝে মধ্যে তাঁরা নিজেদের খাস মজলিসে বলেও ফেলেন।
মাদরাসার বেতন নিয়ে শিক্ষকদেরকে এমনভাবে ঘুরান যেন তিনি ই মুহতামিম! এসব আচরণে তার হাত থেকে নিরাপদ থাকে শুধু মুহতামিম সাহেব সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীগন।

প্রশ্ন থেকে যায় যারা প্রতিষ্ঠানে এভাবে দূর্নীতি প্রশ্রয় দেন তাঁরা কিভাবে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে মজবুত ভূমিকা পালন করবেন?

সেই লিফলেটটি নিচে সংযুক্ত করা হলো, পড়ে নিন।

Image may contain: text
Image may contain: text
Image may contain: 1 person
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস – মুহতামিম, ফরিদাবাদ মাদ্রাসা