মুফতী না হয়েও হাইআর মুফতী বোর্ডের সেক্রেটারী!
দাওরার বছর পরীক্ষায় জালিয়তির অপরাধে বহিষ্কৃত হয়েও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের বুখারীর মসনদে!!

হাইয়াতুল উলয়া আর ফরিদাবাদ এগুলো কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়, অতএব কলঙ্কের প্রতিবাদ আমাকে – আপনাকেই করতে হবে।

ফরিদাবাদের সোনালী ঐতিহ্যে যারা কলঙ্ক লেপন করেছে তাদের সন্তানরা ফেক আইডি দিয়ে নানা অপপ্রচারে নেমেছে, ওদের বিষয়ে কিছু কথা আজ না বললেই নয়:

এক.
নূরুল আমীন, তার বড় ছেলে “কওমি ছাত্র” নামক আইডি থেকে লিখে জাতীয় মু্ফতী বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতী নূরুল আমীন….
অথচ বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র বলছেন নূরুল আমীনকে সেক্রেটারি করার মতো কোন সিদ্ধান্ত কখনও হয়নি।
আর পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়াগেছে এই নূরুল আমিন আদৌ মুফতীও নয়!
হাটহাজারীতে দাওরা পড়ার পর দেওবন্দ যেতে চেয়েছিল পরে আর যাইনি, ময়মনসিংহে শিক্ষকতা শুরু করে। তারপর মাদরাসা বদল করতে করতে ফরিদাবাদে এসে ঘাটি করে।
এর মাঝে কোন মাদরাসায় ইফতার সাথে কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই! তামরীন কিংবা সার্টিফিকেট তো বহুত দূর কী বাত!
অথচ সে জাতীয় মুফতী বোর্ডের সদস্য, আর ছেলে লিখে বেড়ায় সেক্রেটারি জেনারেল!!

দুই.
হাটহাজারী মাদরাসায় দাওরার বছর আবূ দাউদ পরীক্ষায় জালিয়তির দরুণ বহিষ্কার হওয়া এই নূরুল আমীন ঐতিহ্যবাহী ফরিদাবাদের প্রায় ৪০ বছরের প্রবীণ সব উস্তাদদের ডিঙ্গিয়ে সুমন্দী ‘র একক কৃপায় বুখারীর দরস বাগিয়ে নেয়!!
জালিয়তির রাজসাক্ষীর জবানবন্দী পূর্বে এক পোষ্টে দেয়া আছে।
মাশাআল্লাহ তার ছেলেরাও পরীক্ষায় দুই নাম্বারীর এ মীরাস বাবার থেকে আয়ত্ব করেছেন ভালোভাবেই!

তিন.
“হাইআতুল উলয়া” একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান, এটার লগো ব্যাবহার করে নূরুল আমীন পুত্র মাহফুজ “কওমি নেটওয়ার্ক” নামে আইডি পরিচালনা করে বিভিন্ন অপপ্রচার চালায় স্ক্রীনশর্টে সব প্রমান মনযোগ দিয়ে দেখুন, নিজের ফেক আইডিতেই নিজের রিয়েল আইডি দিয়ে কমেন্ট!
ফেইক আইডির প্রোফাইল লিংকেও ভাসছে তার নাম।

চার.
ফরিদাবাদের জন্য চরম কলঙ্কের বিষয় হলো এই নূরুল আমীন পুত্রদ্বয়ের জন্য বিশাল করে আলাদা আলীশান কামরা তৈরী করা হয়েছে সুসজ্জিত দামী কাঠের দরজা ও থাই ফিটিং সহ। রয়েছে ভিতরে ফ্রীজ, ওয়াইফাই ব্যবস্থা সহ বিলাসী যাবতীয় সরঞ্জাম!
ফরিদাবাদের মুহতামিম ছাড়া কারো এতো বড় রুমও যেমন নেই তেমনি নেই এধরনের বিলাসিতা!
হ্যাঁ, আবার পড়ুন এটা নূরুল আমীনের রুম নয় পুত্রদের জন্য তৈরীকৃত রুম। নূরুল আমীনের রুম আরো সমৃদ্ধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত!!

নূরুল আমীন বরাদ্ধ পেয়েছে মাদরাসার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোয়াটার যা সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পিছনে অবস্থিত!
অথচ অন্যান্য শিক্ষকের কোয়াটারের নাম গন্ধও নাই??

এ অধ্যায়ে এসে যদি ধরেও নেই যে, তিনি নায়েবে মুহতামিম হিসাবে পেয়েছেন তাহলে আমাদের ২০/২৫ বছরের প্রবীণ নায়েবে মুহতামিম কেন এসব সুবিধা বঞ্চিত হবেন?
হ্যাঁ, এটা সত্য যে তিনি কখনও এ অসৎ সুবিধা ভোগ করার মতো মানুষ নন। তাঁর আদর্শ রয়েছে, গায়রত রয়েছে।

পাঁচ.
সেই বিলাস বহুল কামরায় দুই পুত্রদ্বয়ের রাতভর হিন্দি মুভি দেখার সত্যতা খাদেমরাই স্বীকার করেছে। আর বেনামাজী হওয়ার ইতিহাস তো পুরো মাদরাসা জুড়ে স্বীকৃত। নেই সবকে উপস্থিতি। পরিক্ষায় ফেল সাধারাণ বিষয়, সব আড়াল পড়ে যায় ওরা সাহেবজাদা।
যারা এসব প্রতিবাদ করে তাদেরকে নাকি বাপের খেদমত থেকে আউট করে দেয়! খাদেমদের সাথে ওদের ব্যবহার যেন গাধার মত! এটা সহপাঠীরাই বলে বেড়ায়।

ছয়.
মাদরাসার ভিতরে মুহতামিম বলয়ে সাহেবজাদা ও খাদেমদের অন্যায় – অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকায় থাকা কঠোর দারুল ইক্বামা যিনি “আদীব সাহেব” নামে পরিচিত, প্রায় দেড় যুগের শিক্ষককে সাজানো অভিযোগে বহিষ্কার করে এ চক্রটি সম্পূর্ন নিয়মবহির্ভূতভাবে। আর তাঁর বিদায় নিয়ে নূরুল আমীন পুত্র কত জঘন্য স্ট্যাটাস দিয়েছিল তা নিচের ছবিতে দেখুন!

সাত.
খোদ নূরুল অামীনের বিরুদ্ধে রয়েছে তার ইয়াতীম ভাতিজাদের ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ যা তাদের বাবা নূরুল আমীনকে আলেম হিসাবে বিশ্বাস করে জায়গা কিনতে দিয়েছিল, পরে হটাৎ বাবা মারা যাওয়ায় সন্তানরা আর সে টাকা ফেরত পাচ্ছেনা এবং নূরুল আমীনও পাত্তা দেয়না।
এবং বোনদেরকে মীরাস থেকে বঞ্চিত করতে কৌশলে বাবার মাধ্যমে সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়া সহ পরিবারে নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রয়েছে আরোও জঘন্য ঘটনাও।
পরিবারের সদস্যদের থেকে সত্যতা যাচাই করতে পারেন। আর এসব ঘটনা খোদ আব্দুল কুদ্দুস সাহেবও জানেন।

এসব লোক কীভাবে হাদীসের দরস দেয় আর কিভাবে আমাদের মুরুব্বী হতে পারে??
ওহ্! এই লোক আবার প্রকাশ্যে ছাত্রদের সাথে নায়েব সাহেব হুজুরের ব্যাপারে কটাক্ষ করে বলে বেড়ায় “বেশী বুযুর্গ”.. এজাতীয় শব্দ।

এসব মানুষ উড়ে এসে জুড়ে বসে বুখারী পড়ায় অথচ ফরিদাবাদের আদর্শে ও রক্তে মাংসে গড়া বেফাকে সারা বাংলাদেশে ১ নাম্বার হওয়া এবং দেওবন্দেও যিনি নম্বরে আওউয়াল সেই মুফতী সাহেবের কাছে অন্তত হাদীসের নিসবতের জন্য যে কোন কিতাবের একটা অংশ চেয়ে ছাত্ররা কর্তৃপক্ষের কাছে পা ধরলেও মন গলেনি!!
এমনকি বছর শেষে বিদায়ী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে দাওরার দরসেগাহে নসীহত করানোর জন্য মুফতী সাহেবকে নেওয়ার অনুমতি পর্যন্ত বিদায়ী ছাত্ররা পায়নি!

হৃদয়ের এ রক্তক্ষরণ বইতে থাকবে সেই ছাত্রদের আজীবন।

Image may contain: 1 person, beard
Image may contain: 1 person