শুধু শুকরানা মাহফিলের সময়েই ফরিদাবাদের ফান্ডে ২ কোটি টাকা গায়েবী নুসরত আসে!

সরকারী অনুদান নিয়ে কিছু কথা পয়েন্ট আকারে তুলে ধরছি, অনেকেই হয়ত জানেন তবুও সবার জেনে রাখা ভালো।

এক.
বেফাক মহাসচিব শুকরানার মঞ্চে দাড়িয়ে বললেন “আমরা সরকারের থেকে কখনো টাকা পয়সা নিবোনা’
অথচ এ বক্তব্য দেয়ার সময় ই তার মাদরাসার ফান্ডে প্রায় ২ কোটি টাকা যোগ হয়েছে, যেটা স্বয়ং তার কোষাধক্ষ্য জুনায়েদ এর স্বীকারোক্তিতে জানা যায়।
তার ভাষ্য ছিল “এই সময়ে হটাৎ ২ কোটির মতো টাকা কেম্নে জানি ফান্ডে জমা হয়ে গেল”

এতো ছিল মাদরাসার ফান্ডের কথা, খামবদ্ধ ব্যাক্তিগতভাবে হাদিয়া তোহফা থেকে তৎকালীন খাদেমদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তারা (খাদেমরা) নিজেরাও বাদ পড়েনি, শায়খ কতবার কতটুকু পেয়েছেন সেটা জিজ্ঞাসা করে মান কমানো উচিত হবেনা।
খাদেমদের হাদিয়া তোহফা প্রাপ্তির কথা তারা নিজেরাই অনলাইন – অফলাইনে সৌভাগ্যবান হিসাবে বলে বেড়াত!

দুই.
লকডাউন শুরু হওয়ার পর সরকার যখন প্রথম দফায় কওমী মাদরাসার জন্য ৮ কোটি ৩১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করে তখন শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও কওমী অঙ্গন প্রত্যাখ্যান করলেও রহস্যজনকভাবে আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের সভাপতিত্বে বেফাক বৈঠকে বসে এক সপ্তাহ পর। প্রত্যাখ্যানের ভাষাও ছিল যথেষ্ট নমনীয়, এমনকি আগে পরে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে তার স্বাক্ষর থাকলেও এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতে তিনি এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেননি নাকি গা বাচাতে এড়িয়েগেছেন তা সামনে উল্লেখ করছি। অথচ বিষয়টি এমন স্পর্শকাতর যার সাথে মাদারিসে কওমীয়্যার শত শত বছরের ঐতিহ্য জড়িত।

মূল কারণ হলো আমি নিজেই যেখানে এসব গ্রহন করে থাকি সেখানে স্বাক্ষর সহ শক্তভাবে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা কিভাবে দেই! তাই তিনি আপাতত সরকারের সামনে মুখ রক্ষা করলেন।

একইভাবে হাটহাজারী থেকে তাদের পেজে কৌশলী একধরনের ঘোষণা দিয়ে আ’ম জনতাকে বুঝ দিয়েছে।

এমনকি তখন এটাও বলা হয়েছিল শীঘ্রই হাইআতুল উলইয়া বৈঠকে বসে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত জানাবে কিন্তু সে সিদ্ধান্ত জানানোর হিম্মত ও সাহস হয়নি নিজেদের তলা ফুটো থাকার কারণে।

তিন.
১১ ই মে ২০২০ তারিখে বিবিসি কে দেয়া সাক্ষাতকারে মহাসচিব আব্দুল কুদ্দুস সাহেব বললেন : বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনুদান গ্রহণ না করার, কিন্তু কোন মাদরাসা যদি সেটা নিতে চায় আমরা বাধাও দিচ্ছিনা।

ঠিকই অনেক মাদরাসা এভাবে তাদের মৌন সম্মতি ও পরামর্শেই এ খয়রাত গ্রহন করে।
প্রধানমন্ত্রীও এতে মাশাআল্লাহ্ অত্যান্ত খুশী এবং উৎসাহিত হয়ে দ্বিতীয়বার আবারও ৮ কোটি ৬৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেন।
বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এ টাকা বন্টন হয়েছে!
এবং এই ১০/২০ হাজার টাকায় কোন কোন মুহতামিম এতো বেশী উল্লাসিত হয়েছেন যে, করোনা না থাকলে আরেকটা শুকরানা মাহফিল হয়ে যেত!

চার.
সর্বশেষ ১৩ ই জুন তথা চলতি মাসে ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয় “ইসলাম ধর্মীয় সংগঠনের জন্য অনুদান মঞ্জুরী” প্রসঙ্গে।
সেখানে বাছাইকৃত কিছু মাদরাসার জন্য ২ কোটি টাকারও বেশী অনুদান মঞ্জুরী দেওয়া হয়েছে!
তালিকার অধিকাংশ মাদরাসা ই বেফাক হাইআর শীর্ষ কর্তাদের!
ধর্ম মন্ত্রনালয় বলছে তারা মাদরাসাগুলোর সাথে যোগাযোগ ও সম্মতি নিয়েই এ বাজেট তৈরী এবং তালিকা চূড়ান্ত করেছে।

আরও রহস্যজনক গোপনীয়তা হলো ধর্ম মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে কওমী মাদরাসার ভর্তি কার্যক্রমের অনুমতি প্রদান সহ আগে-পরের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য অনেক মঞ্জুরীর নোটিশ থাকলেও এমন গুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি নেই!
তারমানে একধরনের লুকোচুরি খেলার মাধ্যমে কতিপয় মাদরাসার সাথে এসব লেনদেন হচ্ছে।

হাটহাজারী, ফরিদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, রহমানিয়া সহ বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম এতে রয়েছে।

ইতিমধ্যেই জামিয়া রাহমানিয়ার পক্ষ থেকে মাওলানা মামুনুল হক প্রিন্সিপাল সাহেবের বরাত দিয়ে ভেরিফাইড পেজে পোষ্ট করেছেন যে : আমরা এমন অনুদান গ্রহন তো দূরের কথা! এর কিছুই জানিনা, এবং আমরা কখনো এমন আবেদনও করিনি এবং কেউ দেয়ার তো প্রশ্ন ই আসেনা!

মাওলানা মামুনুল হক সাহেব প্রশ্ন রেখে বলেন বাংলাদেশে কওমী মাদরাসা নিয়ে হচ্ছেটা কী?

মন্ত্রনালয় কর্তৃক কওমী মাদরাসাগুলোর ব্যাপারে এমন বক্তব্য লিস্টে থাকা কোন কোন মাদরাসার ব্যাপারে অবশ্যই নিশ্চিত মিথ্যা বলে আমরা মনে করি, হ্যাঁ কিছু ভিখারী মুহতামিম হয়ত আবেদন করেছে, না হয় মন্ত্রনালয়ও এভাবে বলার সাহস পেতনা।

কতিপয় দালালের সাথে যোগাযোগ ও তাদের আবেদনের বিষয় গোটা কওমী অঙ্গনের উপর বারবার চাপিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আশা করি গায়রতমন্দ আকাবির বিবেচনা করবেন এবং লিষ্টে থাকা মাদারিসগুলোর মান্যবর হযরাতও নিজেদের সুস্পষ্ট বক্তব্য জাতির সামনে তুলে ধরবেন বলে আশা করি, যাতে মাদরাসার খায়রখাহ্ কওম তাদের নেক গুমান আপনাদের প্রতি বহাল রাখতে পারে।

বি:দ্র: লিষ্টের নামগুলো ক্লিয়ার পড়তে না পারলে বার্তা ২৪.কম এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। সেখান থেকে মাদরাসাগুলোর নাম দেখে নিন।

No photo description available.
Image may contain: text that says "তা2৪ Barta24 সোমবার, ২৯ জুন ২০২০, ১৫ আষাঢ় ১৪২৭ অনুদানপ্রাপ্তির তালিকায় রয়েছে- চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা, জামিয়া রাহমানিয়া তমসজিদ-মোহামুদপুর জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী, ফরিদাবাদ মাদরাসা, লালবাগ মাদ্রাসা, বড় কাটারা মাদরাসা, মারকাযুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়া হযরতপুর কেরানীগঞ্জ, জামিয়াতুল আজিজ আল ইসলামিয়া কেরানীগঞ্জ, জামেয়া শরইয়া মালিবাগ, জামিয়াতুস সুন্নাহ শিবচর মাদারীপুর, গওহরডাঙ্গা মাদরাসা গোপালগঞ্জ, ঢালকানগর মাদরাসা, পটিয়া মাদরাসা, জিরি মাদরাসা চট্টগ্রাম, দারুল মাআরিফ মাদরাসা চট্টগ্রাম, জামিয়া ওবায়দিয়া নানুপুর মাদরাসা, চরমোনাই আলীয়া মাদরাসা, শর্ষিনা আলিয়া মাদরাসা, ছারছীনা আলিয়া মাদরাসা, আকবর"
Image may contain: text that says "তো2৪ সোমবার, ২৯ জুন ২০২০, ১৫ আষাঢ় ১৪২৭ কমপ্লেক্স মিরপুর, শায়েখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, রামপুরা বনশ্রী, আফতাবনগর মাদরাসা, মাদরাসা দিনাজপুর, গহরপুর মাদরাসা সিলেট, জামিয়া সিলেট, রেঙ্গা মাদরাসা সিলেট, জামিয়া ইকরা ঢাকা, মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা, জামিয়া হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসা মহাখালী, বাহিরদিয়া মাদরাসা ফরিদপুর, দারুল উলুম মাদরাসা খুলনা, উলুম মাদরাসা কুমিল্লা, জামিয়া আরাবিয়া আশরাফিয়া মিরপুর, জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া চট্টগ্রাম, ভবানীপুর মাদরাসা গোপালগঞ্জ, মাখজানুল মাদরাসা ময়মনসিংহ, লক্ষীপাশা মাদরাসা নড়াইল, হস্তপল্লী শামসুল উলুম মাদরাসা গোপালগঞ্জ, জামেয়াতুল ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার কক্সবাজার, জামিল নওগা,"