ছবিতে দেখা যাচ্ছে রমজানের ২৮ তারিখের হাটহাজারীর উস্তাযগণের সকলকে একত্রিত করে ইফতার আয়োজনের দৃশ্য, একপাশে একা বাবুনগরী হাফি. কে আলাদা চেয়ায়ে বসানো অপর পাশের চেয়ারে অন্যান্য সিনিয়র উস্তাযগন।

বলা যায় এটা একপ্রকার নজিরবিহীন ইফতার আয়োজন। কারণ হাটহাজারীতে সকল উস্তাযগণের উপস্থিতির চেষ্টায় এমন আয়োজনের ইতিহাস নিকট অতীতে নেই।

হটাৎ কেন এমন ইফতারীর আয়োজন?
বাহ্যিকভাবে মনে এভাবে শান্তনা দেয়া যে, মাদরাসার সকল উস্তায এক ও ঐক্যবদ্ধ আছেন, কোন ধরনের বিভেদ নেই। মাশাআল্লাহ্ চমৎকার ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

কিন্তু বিভেদের সংশয় ই বা কেন আসলো?
১৬ ই মে যখন ষড়যন্ত্রকরে নায়েবে মুহতামিম ঘোষণার প্রস্ততি চলছিল তখন মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী হাফি. ও মুফতী নূর আহমদ সাহেব সহ জামিয়ার সিনিয়র উস্তাযগনের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হাটহাজারী হযরতের সাথে দেখা করেন বেলা ১১ টার দিকে, তখন তারা এসব গুঞ্জনের কথা জানান এবং শুরার সিদ্ধান্ত ছাড়া এসব ফাসাদ ডেকে আনবে বলে মুহতামিম সাহবেকে জানিয়ে দেন। কিন্তু মুহতামিম সাহেব তখনও পর্যন্ত এসব শুনে হ্যাঁ/না কিছুই জানাননি। অন্তত তাঁদেরকে এতটুকুও বলতে পারতেন যে, এমন কোন কিছু হবেনা, তাও তিনি বলেননি।
তার মানে যা গুঞ্জন ছিল তা হতে চলছিল।

পরবর্তীতে সেদিন বাদ জোহর স্থানীয় আলেমদের প্রতিবাদে ভেস্তে যায় এ প্ল্যান। সন্ধ্যায় মুহতামিম সাহেবের নাকে নল লাগানো একটি ভিডিও প্রচার করে ষড়যন্ত্রকারীরা আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।
এ যাত্রায় ব্যার্থ হয়ে পরবর্তীতে শুরার নাটক করে যা করেছে তা তো জাতির সামনে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।

উল্লেখ্য এসব গুঞ্জন বিচক্ষণ ব্যাক্তিবর্গ শতভাগ সত্য দেখতে পাচ্ছিলেন যখন আগের জুম্আ’ তথা ১৫ ই মে ২১ শে রমজান আকস্মিকভাবে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফি. এর পরিবর্তে মাওলানা দীদার সাহেবকে দিয়ে জুম্আ’র খতীবের দায়িত্ব পালন করায় আনাস বিন শফী, আব্বা কইসে নীতিতে।

এরপর ২১ শে মে ২৭ শে রমজান দুপুরে হাটহাজারী মসজিদে মুহতামিম সাহেব আকস্মিক মুফতীয়ে আ’জম চাটগামী সাহেব হাফি. ইঙ্গিত করে পদচ্যুতির ঘোষণা দেন।

এসব ঘটনা থেকে বাহ্যত ভিতরে – বাহিরে আসাতিযায়ে হাটহাজারীর বিভক্তি অনুমান হওয়ায় অানাস গং ২৮ শে রমজান আকস্মিক ইফতার আয়োজন করে সমস্ত শিক্ষকদের একত্রিত করে।
এতে তোহমত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হলেও শেষমূর্তে শায়খ বাবুনগরী হাফি. অংশগ্রহন করলেও চাটগামী সাহেব হুজুর যাননি।
উল্লেখ্য, এই ইফতার মজলিসে মুহতামিম সাহেব নসীহত কিংবা দু’আ কিছুই করেননি।

বাবুনগরী হাফি. যখন মুহতামিম সাহেবের রুম পর্যন্ত যান তখন “আনাস” এগিয়ে এসে হুজুরকে হাত ধরে ভিতরে নিয়ে যায় এবং একপাশে আলাদা চেয়ারে বসায়।
“আনাস” নিজ হাতে তরমুজ এনে দেয় হুজুরকে।
হুজুর স্বভবজাতভাবে সামান্য কিছু ইফতারী করেন।

ইফতারির পর রুমে আসতেই হুজুরের শারীরিক অস্থিরতা শুরু হয়, ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে কেমন যেন অজ্ঞান হয়ে পড়েন হুজুর। হটাৎ অবস্থা এমন হতো যে, কাউকে চিনতেননা।

হুজুরের ব্যাক্তিগত চিকিৎক “সি এস সি আর” হসপিটালের ডাক্তার ইবরাহীম সাহেবকে সংবাদ দিলে তিনি তখন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তাৎক্ষনিক তার হাসপাতাল থেকে দুই সদস্যের চিকৎসক টিম পাঠিয়ে দেন তারা বেশ কয়েক দফা যাতায়াত করে স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হুজুরকে ইঞ্জেকশন ও এন্টিবায়োটিক ঔষধপত্র প্রয়োগ করে চিকিৎসা করেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে হাসপাতাল ভর্তি নিরাপদ নয় বলে ডাক্তারগন পরামর্শ দেন।
এসময় টানা ৯ দিন হুজুরের ১০৩-১০৪ পর্যন্ত জ্বরে ভুগেন। স্বাভাবিক খাওয়া – দাওয়া পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
তথাপি হুজুরের এ মারাত্মক অসুস্থতার কথা সেসময় আপনজন গোপন রেখেছিলেন এ হিকমতে যে, শত্রুপক্ষ প্রচারনা চালাবে হুজুরের করোনা হয়েছে কিংবা মুহতামিম সাহেবের বদ্ দু’আ লেগেছে এধরনের ট্রল ও অপপ্রচার থেকে বাঁচতে।

যে আনাস মাত্র ১ মাস আগে নিজ হাতে বাবুনগরী হাফি. কে মেহমানখানায় এগিয়ে নিয়ে নিজে তরমুজ এনে খাওয়ালো সেই আনাসের কি তখন মনের মধ্যে ছিল এটা যে, এই জুনায়েদ বাবুনগরী তো জামায়াতের সাথে মিলে কাজ করে!
সাম্প্রতিক ভাইরাল কলরেকর্ড তো তাই প্রমাণ করে!
এ প্রেক্ষিতে আমাদেরও নতুন করে শঙ্কা জাগে সেদিনের তরমুজে কোন অসৎ উদ্দেশ্যে বিষ মিশ্রিত ছিলোনা তো? যা খাওয়ার পর হুজুর মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
শঙ্কা আরো বেশি জাগে হুজুরকে একেবারে আলাদা বসানো হয়েছিল! অথচ অপরপাশে অন্য সিনিয়রদের পাশে পর্যাপ্ত আসন ফাঁকা ছিল।
হুজুরের প্রতি আনাসের সেদিনের আকস্মিক দরদী আচরণ কেমন যেন অন্যরকম ছিল।

রহস্যজনক বিষয় হচ্ছে উস্তাদ ও স্টাফগনের ইফতার মজলিস হলেও সেখানে দেখা যায় রুহী, আলমগীর, মোজ্জাম্মেল এর মতো চরম বিতর্কিত বহিরাগতদেরও।
অথচ যাদের সাথে হাটহাজারী মাদরাসার দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। একইভাবে তাদেরকে মজলিসে শুরার দিন মাদরাসায় দাপুটে ভাব নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

হয়ত সেদিনের আচরণগুলো মেকি ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত ছিল অথবা কয়েকদিন আগের ফোনকলে বলা কথাগুলো উদ্দেশ্য প্রনোদিত। উভয়টা একই সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এরকম নেফাকী যারা অন্তরে লালন করে তাদের থেকে এধরনের জঘণ্য ও ঘৃণ্য কাজকর্মও অস্বাভাবিক নয়, তাই আল্লামা বাবুনগরী হাফি. এর আশপাশের খেদমতের সাথীদের আরো চৌকান্ন হওয়া জরুরী, যাতে কোন ষড়যন্ত্র কারী তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে না পারে। সর্বোরপরি আল্লাহ তা’য়ালা ই সর্বোত্তম হেফাজত কারী।

দৃশ্য: সেদিনের ইফতার বৈঠকের, বামপাশে একা হুজুর বসে আছেন!

Image may contain: one or more people and indoor