৪২ তম অর্থাৎ গত বৎসর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বেফাকের নিয়ম ভঙ্গ করে স্বজনদের তথা ছেলে, মেয়ে ও জামাতাকে পরীক্ষক বানিয়ে তাদেরকে উত্তরপত্রের মোট ১৪টি পূর্ণাঙ্গ ও ৪টি আংশিক প্যাকেট দিয়েছিলো। উক্ত প্যাকেট গুলোর খাতার সংখ্যা ছিল প্রায় ৫,০০০ (পাঁচ হাজার)। সে এর বিনিময়ে প্রায় ৮০,০০০/=(আশি হাজার) টাকা হিসাব বিভাগ থেকে উত্তোলন করেছিলো, বেফাকের উসূল মোতাবেক একজন পরীক্ষককে উত্তরপত্রের একাধিক প্যাকেট দেয়া যায় না। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কাজটি করে নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতা অপব্যবহারের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।খাতাপ্রাপ্ত স্বজনেরা:

★ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তার বড় ছেলে মাওলানা হোসাইন আহমদ মিনহাজকে (শিক্ষক, বারিধারা মাদরাসা) মোট ৪টি পূর্ণাঙ্গ খাতার প্যাকেট দিয়েছিলো যথাঃ১. মিশকাত ১ম এর ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-৬৫৮৬) ২. শরহুল আকাইদের ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-১৩৬২৬)৩. শরহুল আকাইদের আরও ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-৬৫২৫)৪. নূরুল আনওয়ারের ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-১৩৭৬৫)

★ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তার জামাতা মাওলানা ইকরামুল হককে (শিক্ষক, জামিয়া মাদানিয়া রওজাতুল উলুম, কুমিল্লা) ৭টি পূর্ণাঙ্গ খাতার প্যাকেট দিয়েছিলো। যথাঃ ১. মিশকাত ১ম এর ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-১৯৩৫)২. বায়যাবীর ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-২৫৯৬)৩. হিদায়া ৩য় এর ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-১০৭০৩)৪. আকিদাহর ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-১৯৭২৫)৫. শরহে বেকায়ার ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-১৯৬৫৪)৬. নাহবেমীরের ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-১৫১০৪) ও৭. তালিমুল ইসলাম ৪র্থ এর ১টি প্যাকেট (মুমতাহিন কোড-১৭৮৮৩)

★ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তার মেঝ মেয়ে উম্মে সুলাইমকে (যে কোন মাদরাসার শিক্ষিকা নয় এবং কুমিল্লায় অবস্থান করে স্বামীর সংসার করে।) “জামেয়া ইব্রাহীমিয়া মহিলা মাদরাসা, কাজলা, যাত্রাবাড়ী” -র শিক্ষিকা সাজিয়ে এসো আরবী শিখির ১ প্যাকেট খাতা দিয়েছিলো। যার কোড ছিল-১৯৬৭৬।

★ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তার ছোট মেয়ে উম্মে যিয়াদ কে দিয়েও খাতা দেখিয়েছে অথচ সে জামেয়া ইব্রাহীমিয়া মহিলা মাদরাসা কাজলা যাত্রাবাড়ী -র ছাত্রী। তাকে উক্ত মাদরাসা শিক্ষিকা সাজিয়ে তালিমুল ইসলাম ৪র্থ এর ১টি মুমতাহিন প্যাকেট দিয়েছিলো। যার কোড ছিল-১৯৬৭৩।

★ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিজেও জালালাইন কামেল এর একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেট ও বিক্ষিপ্ত বহু খাতা দেখেছিলো, যা দেখা বেফাক স্টাফদের জন্য নিষিদ্ধ (আগে এ খাতাগুলো নিরীক্ষকগণ দেখতেন।) এছাড়াও সে রমজান মাসে বেফাকের ফলাফলের গুরুত্বপূর্ণ কাজের তদারকি বাদ দিয়ে অফিস টাইমে আল হাইআতুল উলইয়ার বুখারী ১ম এর খাতা দেখেছিলো এবং কর্মীদেরকে দিয়ে অফিস টাইমেই সেগুলোর নম্বরপত্র তৈরি করিয়েছিলো।বি.দ্র. বিগত বছরগুলোতেও একইভাবে সে ঘনিষ্ঠজনদের মাঝে খাতা বন্টন করেছিলো।পরীক্ষা বিভাগের সফটওয়ারে মুমতাহিন কোড দিয়ে চেক করলে তথ্যগুলো খুব সহজেই বের করা সম্ভব।উল্লেখ্য যে, বিগত বছরে খাতা দেখার জন্য মুমতাহিনগণকে অফিস কর্তৃক যে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল তাতে একজনের পক্ষে ১ প্যাকেট দেখে শেষ করাই ছিল কষ্টকর। সেখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ছেলে ৪ প্যাকেট ও জামাতা ৭ প্যাকেট কিভাবে দেখলো? তা অবশ্যই ভেবে দেখার মতো বিষয়। এ ধরনের দায়সারা গোছের খাতা দেখার কারণেই ভাল ছাত্ররা সঠিক নম্বর পায়না। পরে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে তাদের অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়। তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানির স্বীকারও হয়। অন্যদিকে অনেক দুর্বল ছাত্ররাও বেশি নম্বর পেয়ে যায়। ফলে বেফাকের পরীক্ষকদের নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহনগোয্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।খাতা ও নেগরান নির্বাচনে অনিয়মঃখাতা দেখার ক্ষেত্রে নবীন মুমতাহিনগণ নিচের মারহালা থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে উন্নতি পেয়ে উপরের মারহালার খাতা দেখে থাকেন। এই হিসেবে একজন নতুন মুমতাহিনের পক্ষে ফযীলতের খাতা পেতে ৪/৫ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। অথচ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তার ছেলে মাওলানা হোসাইন আহমদ মিনহাজকে নবীন অবস্থায়ই বেফাকের সর্বোচ্চ মারহালা’র (ফযীলত) খাতা দিয়েছে। তেমনিভাবে নেগরানীর ক্ষেত্রেও তার ছেলেকে তড়িঘড়ি করে মিফতাহুল উলূম মধ্যবাড্ডার মত মারকাযে নেগরানে আ’লা করে পাঠিয়েছিলো। তখন সিনিয়র নেগরানবৃন্দও তার অধীনে থেকে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এটিও ছিল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থেকে সংঘটিত হওয়া ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, অগ্রহনযোগ্য ও নিন্দনীয় কাজ।তার এ অপকর্মের ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ , মহাসচিবের ছত্রছায়ায় এসব সম্পাদন করতো বলে কেউ কিছু বলার সুযোগ ও সাহস পেতোনা।ধাপে ধাপে আরো অনিয়ম ও দূর্নীতি বেরিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ্।

★ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবূ ইউসূফের অন্যতম এক সন্ত্রাসী অভ্যাস আছে, সেটা হলো দূর্বল ও নতুন মারকাযভুক্ত মহিলা মাদরাসার খতমে বুখারী ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া বাধ্যতামূলক, না হয় তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করে সে।ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের এক মাদরাসার খতমে বুখারীতে আখেরী দরস দেয়ার জন্য সে হাজির হয়েছে সাথে অতিথি হিসাবে রয়েছে ফরিদুদ্দীন মাসুদ।হয্রতের পাশেই উপবিষ্ট মৃণাল কান্তি দাস। আরেকটু পাশে সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি।ভুলে যায়েননা এটা খতমে বুখারী অনুষ্ঠান কিন্তু।

????? ????????

May be an image of 2 people