কেফায়াতুল্লাহ আজহারী: তাকে সজ্জন হিসেবেই জানতাম, পরিপাটি ও সুরুচিবোধ সম্পন্ন মানুষ মনে করি।দূর্নীতি বাজদের পক্ষে গেলে এমনকিছু বেরিয়ে আসে যেটা নিজের জন্য লজ্জাজনক!যদিও তিনি জামিয়াতুল আযহার থেকে পড়াশুনা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারেননি বহিষ্কারজনিত কারণে।তার ফেসবুক ওয়াযাহাত নামার পর আমি তাকে সুস্পষ্ট প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলাম গোঁজামিলপূর্ণ বক্তব্য লিখে শাক দিয়ে মাছ ডাকতে চেষ্টা না করার জন্য। তিনি বারিধারা যাওয়ার সেই বিষয়কে তো অস্বীকার করতে পারেন নাই ই, উপরন্ত কী করলেন? গত কয়েকদিনে তিনি নিজে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় আলেমদের ফোনদিয়ে বিরক্ত করলেন যে, তিনি উসামা মুহাম্মাদ কিনা? আমার কাছে সব ডকুমেন্ট আছে। তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অামি প্রকাশ করতে পারছিনা। আমার পোষ্টে যারা কমেন্ট করে তাদের ঐ ব্লক থেকে নানাভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হয়!

সাজিদুর রহমান সাহেব: শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন আল্লামা সাজিদুর রহমান সাহেবকে ঐক্যজোটের উপদেষ্টা বলায় অনেকে তার বারাআত ও নিরপেক্ষতা প্রমাণের চেষ্টা করলেন।এবং ঐ ব্লকের নয় তা প্রমাণের জন্য আকারে ইঙ্গিতে পরবর্তী মহাসচিব হিসাবে তাকেই চান বুঝালেন! তরুণ প্রজন্মের দ্ব্যার্থহীন ঘোষণা বেফাক কোন ব্লকের হাতে বন্দী হতে পারবেনা। যদি ঘুরে ফিরে ব্লক ভিত্তিক ই করে ফেলার চেষ্টা করা হয় তা হলে শেষপর্যন্ত আমাদের পরীক্ষার ফি ফিরিয়ে দিতে হবে এবং এ প্রজন্ম পরীক্ষা না দেয়ার সিদ্ধান্তে ঐক্যবদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ্।

সাজিদ সাহেব আসলেই নিরপেক্ষ, আল্লাহ তাকে আরো বড় করুন। পদ পদবী বাড়িয়ে দিন।

এক.সদ্য প্রয়াত ধর্মমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর হাটহাজারী থেকে ধর্মমন্ত্রী হিসাবে সাজিদুর রহমান সাহেবের নাম প্রস্তাব করা হয়, এতে আনাসের সহায়তায় উপরস্থ লবিং তো আছেই তা ছাড়াও লবিং চলেছে বেফাক মহাসচিবের পক্ষ থেকেও। এটা স্বীকার করেছেন হজ্ব এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (হ্যাব) সভাপতি তসলিম হোসেন। সে নিজেও কিন্ত আবার ওয়ান অফ দ্যা ক্যান্ডিডেট ফর রিলিজিয়াস মিনিস্টার!(হ্যাব সভাপতি তসলিমের সাথে আবার ঘনিষ্ট সম্পর্ক বেফাক মহাসচিবের বড় পুত্র হজ্বব্যাবসায়ী ফাহিমা এয়ার ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী শরীফ এর।)

দুই.সাম্প্রতিক গোপন গোপনে হেফাজত পূনর্গঠন করে প্লাস মাইনাসের যে খেলা শুরু হয়েছিল সে সময় জাতীয় দৈনিকগুলোতে নিউজ হয়েছিল মহাসচিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেও হতে পারে। তার সাথে যোগাযোগ না করেই এমন গুঞ্জন উঠেনি! সমর্থকদের কাউকে সে সময় ঐ নিউজের কোন প্রতিবাদ করতে দেখা গেলোনা তারা শক্তিশালী হওয়ার কারনে, আর আকস্মিক গতকাল তার ব্যাপারে সব ভূয়া বলে তাকে স্বচ্চ প্রমাণে উঠে পড়ে লাগলেন।

তিন.কেউ কেউ তাকে ইসলামী ঐক্যজোটের “উপদেষ্টা” হিসাবে অস্বীকার করছেন। জানিনা “ঐদিকের” হয়ে যাওয়ার লজ্জায় কিনা?অথচ তিনি পদত্যাগ করার কোন ঘোষণা আজো পর্যন্ত দেননি। যেমন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগী সাহেব ও মধুপুরের পীর সাহেব দিয়েছেন।এমনকি রমজানে যখন ঐক্যজোট চেয়ারম্যান আব্দুল লতীফ নেজামী সাহেবের ওয়াফাত পরবর্তী হাসানাত আমিনী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয় তখনও বিবাড়ীয়া থেকে তিনি আলেমদের নামে অভিনন্দন বার্তা প্রেরণ করেন।

চার.২৫ শে নভেম্বর ২০১৭ রোজ শনিবার ঐক্যজোটের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র খেলাফতের ব্যানারে ইসলামী ঐক্যজোটের উপদেষ্টা হিসাবে অংশ নেন। তারপরও কি বলবেন তিনি উপদেষ্টা নন?

২৫ শে নভেম্বর ২০১৭ রোজ শনিবার ঐক্যজোটের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র খেলাফতের ব্যানারে ইসলামী ঐক্যজোটের উপদেষ্টা হিসাবে অংশ নেন সাজিদ সাহেব

পাঁচ.২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে তার মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য ঐক্যজোট থেকে দৌড়ঝাঁপ হয়েছিল। কালেরকন্ঠের নিউজ দেখুন।

ছয়.ফয়জুল্লাহ তাকে বায়তুল মোকাররমের খতীব পদ পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসও দিয়েছে। সে মোতাবেক লবিংও হয়েছে।

সাত.ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইউনুসিয়ার ব্যাপারে বেফাক মহাসচিব এমন মারাত্মক উক্তি করা সত্ত্বেও গতকালকের মিটিং এ তার এই বক্তব্যের কৈফিয়ত চাওয়া কিংবা প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা উল্টে তার পক্ষে মজবুত পাহাড় হয়ে দালালি করলেন! এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসি বিশেষকরে জামিয়া পরিবার হতাশ।

আনাস-ফয়জুল্লাহ্, আব্দুল কুদ্দুস-নূরুল আমীন সাপ সহ এই ব্লকের সব নানা অভিযোগের জর্জরিত বিধায় তাদের এখন শেষ ভরসা তুলনামূলক ক্লিন ইমেজের সাজিদ সাহেব।যদি শেষ পর্যন্ত মহাসচিবকে সরে দাড়াতেই হয় তাহলে হাটহাজারী থেকে সাজিদ সাহেবের নামই চূড়ান্ত করে নিয়ে আসা হবে। সাজিদ সাহেব থাকবেন বি বাড়ীয়া, ঢাকায় বসে বেফাকে ছড়ি ঘুরাবে যুগ্মমহাসচিব হিসাবে নূরুল আমীন। আর সহসভাপতি ফয়জুল্লাহ!এসব ব্লকিং মেরুকরণ তরুণ প্রজন্ম কোনভাবেই মানবেনা ইনশাআল্লাহ্।