বেফাক কারো ব্যাক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয় যে সেখানে কোন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া/বাছাই গোপনে করতে হবে! এর জন্য আমেলা ও খাস কমিটি আছে প্রয়োজনে আমেলা কমিটি নিয়োগ কমিটি ঠিক করে দিবে। সেখানে মহাসচিব আর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দু’জনে মিলে গোপন চুক্তি করে তা অবশ্যই অপরাধ।নিয়োগকারী ব্যাক্তির নিয়্যত এ ক্ষেত্রে যতই খালেস থাকুক আর নিয়োগের আলোচনা হওয়া ব্যাক্তি যদিও দেশের সবচে’ যোগ্য ব্যাক্তি ই হোকনা কেন!

যেমন আমি বর্তমান মহাসচিব সাহেব যখন সিলেক্টেড হন তখনও ব্যাক্তি মহাসচিব অরাজনৈতিক ও তৎসময়ের জন্য উপযুক্ত মনে করলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে মেনে নিতে পারিনি। শুধু আব্দুল কুদ্দুস সাহেব বলে কথা নয়, তার আগের কাউন্সিলগুলোতেও একই প্রক্রিয়া চলে আসছিল, সিন্ডিকেট সিলেক্টেড কিছু নাম পড়ে শুনিয়ে দেয়া, এই সিন্ডিকেট কান্ডের কারণে অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে, বাধ্যহয়ে চাটুকারদের তোষামোদিতে শীর্ষপদে আসীন ব্যাক্তিবর্গের সংশ্লিষ্টা তাদের জানা/অজানায় চলে আসে শেষতক ফেসে গেলে যতই দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয় কোনভাবেই তিনি এড়াতে পারেননা যৌক্তিক কারণে।

আমি বয়সে তরুণ হলেও মুরুব্বীদের নাম ভাঙ্গিয়ে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে সুবিধাভোগী চোর বাটপাররা কিভাবে লুটে পুটে খায় তা খুব কাছ থেকে দেখেছি বলে প্রতিবাদ করতে বাধ্য। আর এসব বিষয় প্রকাশ করলে অন্ধভক্তদের কাছে চরম বেয়াদবী লাগে।

যাইহোক যে প্রসঙ্গে বলছিলাম, মহাসচিব গোপনালাপে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ বিষয়ে আবূ ইউসুফ কে বলছেন “আমি দিলে আপনি গ্রহন করবেন কীনা? বেফাকে নম্বরে আউওয়াল হয়েছে, আমি দিয়েছি সেটা আপনি বলতে পারবেননা, আপনি গ্রহন করে কাজ চালাতে থাকবেন! এখানেই বুঝা যায় তার দূর্বলতা।

কেন এই চোরাই পথ অবলম্বন করতে হচ্ছে? যেহেতু নিয়োগের আলোচিত ব্যক্তি যোগ্য ই তাহলে তো মিটিংয়ে সবার সামনে উত্থাপন করতে পারতেন? তা তিনি কেন করেননি? লেখক বুঝানোর চেষ্টা করলেন আমার সম্মতি পেলে আমেলায় বিষয়টি উঠাতেন মহাসচিব! চিন্তা করে দেখুন কি সিস্টেম অবলম্বন করে তারা? নিজেদের পছন্দ চূড়ান্ত করে আমেলার অনুমোদন চেষ্টা!?

লেখকের সেই লেখা থেকে উঠে আসে অাব্দুল কুদ্দুস সাহেব, নূরুল আমীন সাহেব এবং মাহফুজুল হক সাহেব এবং কোষাধ্যক্ষ মুনীরুজ্জামান সাহেব মৌখিক ইন্টারভিউ নিতে মজলিসে যাত্রাবাড়ীর বায়তুন্ নূরে একত্রিত হয়েছিলেন!

★ এতো কাছে বেফাক অফিস থাকতে নিজেদের লোক নিয়ে বায়তুন্ নূরে কেন বসতে হলো? বেফাকের নিয়োগ সংক্রান্ত ইন্টারভিউ বেফাকে হওয়াটাই যৌক্তিক ছিল।

★ ঘটনা প্রায় বছর খানেক আগের, তাহলে একবছর পর্যন্ত কেন এই পদে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে পদটি শূণ্য রাখা হলো? নাকি নিজেদের পছন্দের সেরকম লোক পায়নি বলে!!যেখানে একাধিক লোকের প্রয়োজন সেখানে একক লোক রাখায় তার আধিপত্য বিস্তার ও দূর্নীতির সুযোগ হয়েছে, তিনি নিজের মনমত কাউকে পাননি বলে নিয়োগ দেননি। বেফাক কি কারো মনমত চলার প্রতিষ্ঠান নাকি এর কোন নীতিমালা নেই?বাংলাদেশে কি এই পদের যোগ্য আমানতদার কেউ ই নাই??

★ তার নিয়োগের ব্যাপারে আব্দুল গনী সাহেব কেন লবিং করেছেন সেটার উত্তর তিনি দিয়েছেন যে তার মুরুব্বী আব্দুল গনী সাহেব, এখানে আরেকটা যোগ্যতা বাদ পড়েগেছে যে উক্ত যোগ্য ব্যাক্তি নিজে এবং তার বাবা উভয়েই আব্দুল গনী সাহেবের ছাত্র। যার দরুণ একটু চেষ্টা করেছেন আরকি! এটাকে কেউ অন্যকিছু ভাববেননা।সর্বোরপরি কথা হলো শুধুমাত্র নিজেদের পছন্দের লোক না পাওয়ার কারণে বছরকে বছর পদ খালি রেখে অযোগ্য ও অনিয়মের আখড়া বানিয়ে যারা চালিয়ে যাচ্ছে তারা বেফাকের কতটুকু হিতাকাঙ্খী?

★ এটাকে বৈধতা দেয়ার আরেকটু চেষ্টা করা হলো এভাবে যে, মহাপরিচালক সাহেব মেনে নিতে নাও পেরেন সে জন্য এভাবে নাজেম সাহেবকে নিষেধ করেছেন! আচ্ছা! মিটিংয়ে যদি কোন বিষয় সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাহলে মহাপরিচালক মেনে না নেওয়ার কে? এমন অমান্যতা যদি তিনি আরো কোন কাজে করে থাকেন তাহলে ক্ষমতার ফুল পাওয়ার মহাসচিবদের হাতে থাকা সত্ত্বেও মিটিংয়ে সব উত্থাপন করে সবার থেকে তার ব্যাপারে ফায়সালা নেওয়া কোন ব্যাপারই ছিলোনা।

★ লেখক এমন একজন আমানতদার আদমী হয়েও বললেন যে, মহাপরিচালকও অভিযুক্ত লোক তিনি বেফাকের অনেক ঘনিষ্টজনের কাছে ”ভালো” ব্যক্তি নন, তাহলে এমন ব্যাক্তিকে সরানোর জন্য কথা বলাটা কি অপরাধ? মহাপরিচালক অভিযুক্ত! তো কি বিষয়ে অভিযুক্ত তা তিনি স্পষ্ট করেননি, পরে আবার বললেন ঘনিষ্টজনদের কাছে ভালো নন, আচ্ছা ঘনিষ্ট জনদের কাছে ভালো না হলে কি তাকে সরিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করতে হবে? এটা কোন্ উসূল?অাচ্ছা ধরেই নিলাম তিনি অভিযুক্ত, তাহলে তাকে অপসারণের জন্য শূরা, আমেলা থাকতে থার্ডক্লাশ ব্যক্তি নাজেমে ইমতেহানের সাথে কেন শলা পরমর্শ করবেন মহাসচিব!?

এসব নিয়ে আরো খোলামেলা আলোচনা পরের পর্বে ইনশাআল্লাহ্।